সোমবার দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুদকের আয়োজনে উপজেলার ১০টি সরকারি সেবাদাতা দপ্তর ও সেবাগ্রহিতা সাধারন মানুষের মাঝে দুর্নীতি নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ গণশুনানি চলার এক পর্যায়ে প্রথমে সেবাগ্রহিতা সফিজ উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধকে অনুষ্ঠান সঞ্চালক জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খান ধমক দেন। এরপরেই অপর অভিযোগকারী সোহেল আশরাফীকে তাঁর অভিযোগ প্রসঙ্গে বলতে মাইকে নাম ঘোষণা করা হয়।

সোহেল অভিযোগ উত্থাপন শেষ না করতেই জেলা প্রশাসক তাকে ধমক দিয়ে চোখ রাঙানির চেষ্টা করলে মাস্টার্স পাস সোহেল আশরাফী(৩৬) পাল্টা জেলা প্রশাসককে থামিয়ে দেন। বিষয়টি রাগারাগির পর্যায়ে গড়ানোর আগেই দুদক কমিশনার ও পুলিশ সুপার পরিস্থিতি শান্ত করেন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, দুদক (ঢাকা) পরিচালক মনিরুজ্জামান, দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, সমন্বিত রংপুর জেলা দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার, লালমনিরহাট জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও ক্যাপ্টেন (অবঃ) আজিজুল হক বীর প্রতীক প্রমূখ।

দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠানে পাটগ্রাম উপজেলার ১০টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৮২টি অভিযোগ শুনানি হয়। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ, ভূমি অফিস ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন, খাদ্য, সাব- রেজিষ্টার, নির্বাচন, কৃষি, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বিপরীতে ১টি করে অভিযোগ জমা পড়লেও অন্যান্য অফিসগুলোর বিপরীতে অধিকাংশ অভিযোগ পাওয়া যায়। আর উপজেলা সমবায় অফিসের বিপরীতে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

দুদকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণশুনানির আগে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে র‌্যালী, মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, দুদক পরিচালক (ঢাকা) মনিরুজ্জামান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খান, জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, ক্যাপ্টেন (অবঃ) আজিজুল হক বীরপ্রতীক, রাজশাহী বিভাগীয় দুদক পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল, মেয়র শমসের আলীসহ স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারন জনগণ অংশ নেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে শুধু পাটগ্রামে নয়। সারাদেশেই বহু দুর্নীদির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ অফিসের কর্মকর্তাগণ সাবধান না হলে আমরা তাদের ধরবো। অন্যান্য অফিসারদের সতর্ক করে তিনি আরো বলেন, আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই অভিযোগগুলো সমাধান না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখাতে চাই। আমরা ইচ্ছা করলেই সকলে এগিয়ে এসে দুর্নীতিকে জাদুঘরে পাঠিয়ে জাতির জনকের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

তিনি দেশবাসীকে আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা নিজেরা দুর্নীতি মুক্ত হই, বাংলাদেশকে দুর্নীতি মুক্ত গড়ে নতুন প্রজন্মকে দুর্নীতি মুক্ত রাখি।

দোহা/এমএনজে