প্রবাস ফেরত কামরুজ্জামানের সন্দেহ ছিল স্ত্রী ফাতেমার সঙ্গে অন্য যুবকের সম্পর্ক আছে। সে কারণে ফাতেমার সংসারে মন নেই, মোবাইলে বেশি সময় কথা বলেন। সন্দেহ থেকে কলহ, সেই কলহের জেরেই খুন করেন স্ত্রীকে। পরে সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজেই সাজান ধর্ষণ নাটক।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সফি উদ্দিনের আদালতে জবানবন্দি দেন নগরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার বাসিন্দা কামরুজ্জামান। এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) নিজ বাসায় গৃহবধূ বিবি ফাতেমাকে খুন করা হয়।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার জানান, কামরুজ্জামান একজন প্রবাস ফেরত দিনমজুর। ২০১৭ সালে কামরুজ্জামানের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কামরুজ্জামান ওমানে চলে যান। ২০১৯ সালের মার্চে ফিরে আসেন। ফেরার পর জানতে পারেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে এক ছেলের সম্পর্ক আছে। এ কারণে ফাতেমার সংসারে মন নেই, মোবাইলে বেশি সময় কথা বলেন। অধিকাংশ সময় এ নিয়ে তাদের ঝগড়া হতো। প্রায়ই বাসায় রান্না না হওয়ার কারণে কামরুজ্জামানকে বাসায় ফিরে ভাতের বদলে হালকা খাবার খেয়ে থাকতে হতো।
ওসি বলেন, ‘অন্য দিনের মতো গতকালও কামরুজ্জামান কাজ থেকে ফিরে দেখেন, তার স্ত্রী ভাত রান্না করেননি। এনিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কামরুজ্জামান ফাতেমাকে থাপ্পড় মারেন। তখন লিপিও তার শার্টের কলার চেপে ধরেন। ঝগড়ার একপর্যায়ে কামরুজ্জামান লিপির মাথায় হামানদিস্তা (পান চূর্ণ করার পাথর) দিয়ে আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়। পরে খুনের দায় থেকে বাঁচতে নিজেই স্ত্রীর জামা কাপড় ছিঁড়ে ধর্ষণ নাটক সাজান।’
রাতে খবর পেয়ে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের জন্য কামরুজ্জামানকে সন্দেহ করা হয়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি খুনের বিষয়টি স্বীকার করেন। আজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন কামরুজ্জামান।
এএইচ





