পিরোজপুরের জিয়ানগরে গৃহবধু ধর্ষণের শিকার হয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টার ৬দিন পরে বুধবার মৃত্যু বরণ করেছে। উপজেলার মধ্য বালিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীররাতে বালিপাড়া এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা মাদরাসার শিক্ষক রাজ্জাক এর সহায়তায় একই এলাকার উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান গ্রাম্য ডাক্তারির ওজুহাতে ফারুক ফরাজীর বাড়ীতে ঢুকে ফারুক ফরাজীর স্ত্রীকে বাড়ীতে একা পেয়ে পালাক্রমে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষন করে।
ধর্ষনের শিকার গৃহবধু লোকালজ্জার ভয়ে গায়ে কেরসিন দিয়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে আগুনে তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুরে যায়। সজনরা ও স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখানে তার অবস্থার কোন উন্নতি না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানোর পরমর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু অর্থাভাবে ঢাকা না নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। মুমূর্ষ গৃহবধূ মঙ্গবার সকালে বাড়ীতে এসে সাংবাদিক ও পরিবারের কাছে ধর্ষণের ঘটনা বলেন।
গৃহবধূ জানান, আমার চাচাত দেবর আবদুর রাজ্জাক ও বালিপাড়া গ্র্রামের গনি শেখের ছেলে গ্রাম্য ডক্তার মনিরুজ্জাম ওরফে মনির শেখ পূর্বে একাধিকবার আমাকে ধর্ষন করে। কিন্তু লোক লজ্জার ভয়ে এবং আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাইলে আমি কাউকে কিছু বলিনি। ঘটনার দিন জোড়পূর্বক ধর্ষণের পরে লোক লজ্জায় ও ঘৃর্নায় আমি আত্মহত্যা করার জন্য নিজের গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিই।
গৃহবধূর স্বামী ফারুক ফরজী জানান, আমি খুলনায় ইট পরিবহনে কাজ করি। খুলনা হাসপাতাল থেকে স্ত্রীকে ফেরৎ দেওয়ার পর বাড়িতে এসে তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন রাজ্জাক ও মনির ডাক্তার আমাকে জোড়পূর্বক ধর্ষন করেছে। তাই আমি আহত্মহত্যা করতে চেয়েছি।
এ ব্যাপারে মনিরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি গৃহবধূকে স্যালাইন দেয়ার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে ছিলাম এবং আঃ রাজ্জাক আমার সাথে ছিল। অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শেখ এবং আবদুর রাজ্জাক সরকার দলের লোক হওয়ায় কেউ এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ সহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যপারে ইন্দুরকানী থানার ওসি কে,এম, মিজানুল হক জানায়, এ ঘটনায় ২জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেফতার প্রচেষ্টা ও তদন্ত চলছে।
এআই





