কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চালু হয়নি। রাতে মাদকের আঁখড়া আর দিনে সেখানে চলে ধান শুকানো।

ব্যবহার না হওয়ায় টার্মিনালের টয়লেট, যাত্রী ফ্লোর, মার্কেট, বিশ্রামাগার, কাউন্টারসহ সব জায়গায় দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন, ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ।

দুই সমিতির টানাপোড়নে টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। জানা যায়, শহরের যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং, রাস্তার পাশে যাত্রী-উঠানামা করায় যানজট আর দুর্ঘটনা নিত্যদিনের চিত্র কুমারখালী শহর।

এই দুর্ভোগের মুক্তি দিতে মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে কুমারখালী শহর থেকে মাত্র আধা কিঃ মিঃ দুরে এক একর জায়গা অধিগ্রহণ করে এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন কুমারখালী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল।

নির্মাণের পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সেটি চালু হয়নি। ছেড়ে যায় না সেখান থেকে কোন যাত্রীবাহি বাস। ব্যবহার না হওয়ার ফলে টার্মিনালের টয়লেট, যাত্রী বিশ্রামাগার, মার্কেট, ফ্লোরে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন।

কবে চালু হবে টার্মিনালটি তাও কেউ বলতে পারে না। কুষ্টিয়া-বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি সময় নিয়ন্ত্রক হামিদুল হক মঞ্জু জানান, যাত্রীবাহি কোন বাস আর যাত্রী সেখানে উঠানামা না করায় তা এক ভুতড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় সেখানে ধান-শুকানো আর রাতে বসে অন্য-আড্ডা।

তাবত শহরের মাদক সেবীরা সেখানে বসায় ফেন্সিডিল, গাঁজাসহ নানা মাদকের আড্ডা। প্রভাবশালী এক নেতার আর্শিবাদে এসব অপকর্ম চলে বলে অভিযোগ থাকলেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে সাহস করে না কারোর।

ঝন্টু আলী নামে স্থানীয় এক ব্যাবসায়ী জানান, এখানে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বরাদ্ধ নিয়ে দোকান বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। কিন্তু টার্মিনাল চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশায় ভুগছেন। আবার অনেকে টাকা দিয়ে দোকান কিনে ব্যবসা না করায় সেগুলো বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।

দোকানঘর, ক্লিনিক নির্মাণ করে টার্মিনালের মূল জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ টার্মিনালের দোকানদারদের। সাদিকুর রহমান নামে স্থানীয় এক দোকানদার জানান, কুমারখালী শহরকে যানজট মুক্ত করণ এবং শহরের প্রসস্ততা বৃদ্ধির জন্য একটি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

কিন্ত কর্তৃপক্ষের গাফিলতি আর উদ্যোগের অভাবে টার্মিনালটি চালু হচ্ছে না। এতে টার্মিনালটি ধংশ হতে চলেছে। দখল হতে চলেছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে হলে অচিরেই টার্মিনালটি চালুর দাবী জানান তিনি।

কুমারখালী পৌর সভার মেয়র সামছুজ্জামান অরুন জানান, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির টানা পোড়নে দ টার্মিনালটি চালু হচ্ছে না।

এসএইচ