বগুড়ার মো. শাহিন আলম (৫৬)। হজ পালন শেষে দেশে ফিরতে সৌদির জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছান রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৭টায়। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০১৪ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে জেদ্দা ছাড়ার কথা ছিল তার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা পর বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে ছাড়ায় তাকে শাহজালালে পৌঁছাতে হয়েছে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে।
রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরে নেমে মো. শাহিন আলম বলেন, মূলত জেদ্দা বিমানবন্দরে কঠোর চেকিং ও ইমিগ্রেশনে দেরি হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ বিমানের ফিরতি হজ ফ্লাইটে বিলম্ব হয়। বিমানবন্দরেও দুই থেকে তিন ঘণ্টা বাংলাদেশি হাজিদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পরবর্তী প্রত্যেকটি ফ্লাইটেরও আসতে বিলম্ব হবে।
তিনি আরো বলেন, একই লাইনে পাকিস্তান, ভারত ও অন্য দেশের হাজিদেরও দাঁড় করানো হচ্ছে। অন্য দেশের হাজিরা সুঠাম দেহের হওয়ায় তারা আগে ইমিগ্রেশনে চলে যাচ্ছেন। এজন্য বাংলাদেশি হাজিদের ইমিগ্রেশন শেষ করতে বেশি সময় লাগছে।
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর থেকে মা নূরজাহানকে সঙ্গে নিয়ে হজ করতে গিয়েছিলেন মো. আবুল বাশার (৪২)। তিনি বলেন, জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে সকাল ৯টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের ছেড়ে আসার কথা থাকলেও তা ৫ ঘণ্টা পর ছাড়ে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে তারা কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধাও পাননি। প্রচণ্ড পিপাসায়ও বৃদ্ধা মাকে সামান্য পানি দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না।
ইমিগ্রেশনের লাইনে অসুস্থ মায়ের জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বরং বিদেশি হাজিদের আগে ইমিগ্রেশনের সুযোগ করে দিয়েছে সৌদি এয়ারলাইন্স।
বিমানবন্দরে গুলশানের বাসিন্দা আবুল বাশার বলেন, হজ গাইডদের কাছ থেকে যে সুবিধা পাওয়ার কথা ছিলো, তাও তিনি পাননি। কোনো কিছু জানতে গেলেই হজ গাইডরা রেগে যেতেন। এছাড়া হোটেল থেকে তিনি আগে বের হয়ে যাওয়ায় তার সমস্ত কাগজপত্র হজ গাইডের কাছে থেকে যায়। এজন্য বুকিংয়ে বিমানবন্দরে যেমন দেরি হয়, তেমনিভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে ফ্লাইট বিলম্বসহ বিভিন্ন ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে বাশারকে।
শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতেও জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা দেরিতে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৪শ’ ১৯ জন হাজিকে নিয়ে ঢাকা পৌঁছায়। এ বছর মোট ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন হজ করতে সৌদি আরবে গেছেন। ফিরতি ফ্লাইট ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
এমএনজে





