রাজবাড়ীর কালুখালীতে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর নামক স্থানে লালন পরিবহন ও একটি লোকাল বাসের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে।

আহতের রাজবাড়ী ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

নিহত ৫ জনের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার মাঝগ্রামের ফরমান মণ্ডল (৬০), ফরিদপুরের গোপালপুর এলাকার মিন্টু (২৭), রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মেঘনা গ্রামের জামান শেখের ছেলে মিজান শেখ (২৫) এবং কুষ্টিয়ার বশিগ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মিলন (২৭)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তায় দুইবাসের সংঘর্ষ দেখতে পান। দৌড়ে এসে তারা আহতের গাড়ি থেকে বের করতে নেমে পড়েন। কিছুসময় পড়ে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে।

লালন পরিহনের যাত্রী ও নিহত ফরমান আলী মন্ডলের মেয়ে জামাই আলম মন্ডল বলেন, তারা সকাল ৯টায় গাবতলী থেকে লালন পরিবহনে রওনা দেন। কিন্তু বাসের চালক রাফভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলো। মানিকগঞ্জ পার হওয়ার পরেও তিনি খুব রাফভাবে গাড়ি চালান। এ নিয়ে যাত্রীরা তাকে সাবধান করে। এরপর গোয়ালন্দ মোড় গতিরোধকের কাছে একটি পিকআপকে ধাক্কা দেয়।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক শওকত আলী জোয়াদ্দার বলেন, খবর পেয়ে তিনটি ইউনিট উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে। ঘটনাস্থলে দুইজন মারা গেছে। আহতদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন মাহফুজুর রহমান সরকার বলেন, হাসপাতালে পৌছানোর আগেই একজন মারা গেছে। অপরজন চিকিৎসাধীণ অবস্থায় মারা গেছে। গুরুতর আহতের মধ্যে অন্তত ১০জন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নারী চিকিৎসক মানি মণ্ডল বলেন, ৫টি লাশই বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছে। তাদের ৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। একজনকে এখনও শনাক্ত করা যায়নি। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এমবি