অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে দক্ষিণ এশিয়ার অবকাঠামো উন্নয়নে চিন ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য, কৃষি এবং সমুদ্র-সম্পদ আহরণ বিষয়ে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা হবে। দুইদেশের মধ্যে সংযোগ (কানেক্টিভিটি) বাড়ানোর আওতায় আগামী দিনগুলোতে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।

চীন সফররত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে এক বৈঠকে ওই দেশের রাষ্ট্রপতি শিং জিনপিং এ কথা বলেন। চীনের গ্রেট হলে শনিবার সকালে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রপতির মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (অ্যাপেক) সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাপরিচালক মুঠোফোনে এই তথ্য জানায়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রপতি শিং জিনপিং বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ইনফ্রাসট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) এ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে স্বাগত জানাই। বাণিজ্য, কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সমুদ্র বিষয়ক শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুইদেশ আরও গভীরভাবে একসঙ্গে কাজ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীনের লক্ষ্য হচ্ছে এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত এবং নিরাপদ এশিয়া গড়তে এক অঞ্চল, অভিন্ন সড়ক শীর্ষক স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২১ সালের মধ্যে সিল্ক রোড অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন করা। যার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অংশের সামুদ্রিক সিল্ক রোড বাস্তবায়নে দুইদেশের মধ্যে সংযোগ আরও বাড়নো হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ স্থলপথেও সিল্ক রোডের সঙ্গে যুক্ত হবে। এ জন্য চীন বাংলাদেশকে অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা দেবে।’

প্রসঙ্গত, চীনের রাষ্ট্রপতি শিং জিনপিং নিরাপদ এশিয়া গড়তে ‘এক অঞ্চল, অভিন্ন সড়ক’ শীর্ষক স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২১ সালের মধ্যে ‘সিল্ক রোড অর্থনৈতিক অঞ্চল’ বাস্তবায়ন করতে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পাঁচটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে একই সংযোগের (কানেক্টিভিটি) আওতায় আনার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেন। এ জন্য তিনি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, লাওস, মঙ্গলিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ভারত এবং তাজিকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শীর্ষ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

আব্দুল হামিদকে শিং জিনপিং বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বাংলাদেশ চীনের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। এ দুটি দেশ একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠা করবে। এ জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চীন সবসময়ের জন্য বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’

এদিকে, সরকারি সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বাণিজ্য ভারসাম্য কমাতে চীনের বাজারে বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশে আরও সুবিধা চেয়েছেন। পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের একটি দেশে উন্নীত হতে চীনের সহায়তা চান।

প্রসঙ্গত, এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (অ্যাপেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৬ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ চীন সফরে যান। রাষ্ট্রপতির সফর সঙ্গী হিসেবে একই সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব (দ্বি-পাক্ষিক) মুস্তাফা কামালও ঢাকা ছাড়েন।

ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র সচিব (দ্বি-পাক্ষিক) মুস্তাফা কামাল দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘এ্যাপেকের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রপতি এই সফরে যাচ্ছেন। মূলত এ্যাপেক অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ (কানেক্টিভিটি) রয়েছে। সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে ওই সংযোগ আরও বাড়াতে কাজ করব।’

তিনি জানান, বাংলাদেশে ফেরার পথে চিকিৎসার জন্য ১১ নভেম্বর চীন থেকে সিঙ্গাপুর যাবেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।

এএইচ