শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা দাবি করায় শেভরণ বাংলাদেশের ৪৮ জন কর্মীকে বিনা নোটিশে ছাঁটাই করা হয়েছে অভিযোগ করে তাদেরকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে চাকরিচ্যুত কর্মীরা।
বেআইনী ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাইকৃত সকল শ্রমিককে চাকরিতে পুনর্বহাল এবং শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্তি নিশ্চিতের দাবিতে রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
শেভরন বাংলাদেশে ব্লক নং ১৩ ও ১৪ লিঃ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়ন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
চাকরিচ্যুত ৪৮ কর্মচারির সবাই ড্রাইভার উল্লেখ করে আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শেভরন বাংলাদেশে প্রায় ১১ বছর যাবত কর্মরত থাকলেও এখনও আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে আমরা শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধিসহ শ্রমআইন অনুযায়ী পাওনা নির্ধারণ করার দাবি জানিয়ে আসছি। এ বিষয়ে কোম্পানীর বিদেশী উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানালেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
এ পরিস্থিতিতে তাদের দাবি আদায়ে ১৮ মে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর আমরা শ্রম আদালতে এ বিষয়ে মামলা করলে ২৫ মে শ্রম আদালত একটি আদেশ শেভরন বরাবর প্রেরণ করে।
সে আদেশে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের হয়রানীর উদ্দেশে বদলী, বেতন বন্ধ বা টার্মিনেশন না করতে বলা হয়। কিন্তু শেভরনে আদেশ পৌঁছানোর এক দিন পরেই ২৬ মে থেকে আমাদের কয়েকজন কর্মীকে অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর ১৬ জুন আবার অফিসে ঢুকতে গেলেও আমাদের অফিসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং ২৫ মে এর পর বিভিন্ন ধাপে আমাদের ৪৮ জন কর্মীকে বীনা নোটিশে হঠাৎ করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’
এ পরিস্থিতিতে চাকরিচ্যুতরা আসন্ন ঈদ এবং বর্তমান রমজানে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছে উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করে চাকরি হারিয়ে আমরা কোথায় যাবো?’
শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করে শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এসব কর্মীদেরকে সরাসরি শেভরন থেকে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২০০৮ সাল থেকে ওএএসআইএস সার্ভিস নামক একটি দেশীয় কোম্পানীতে তাদেরকে স্থানান্তর করা কথা বলা হয় এবং তখন থেকে ওএএসআইএস থেকে বেতন ইস্যু করা হয়। এরপর ২০১৫ থেকে আবার পিসিএস নামের আরেকটি কোম্পানীতে স্থানান্তরের কথা বলা হয়।
শেভরন থেকে কর্মীদের স্থানান্তর করার কথা বলা হলেও কাগজে কলমে এখনও শেভরনের নাম রয়েছে এবং ওএএসআইএস এবং পিসিএস দুই কোম্পানীর কাউকেই চিনেনা বলেও জানান অপর এক কর্মী মো. শহীদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ ভুঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ মো. কামাল উদ্দিন, সদস্য নরেন কান্তি কবিরাজ প্রমুখ।
এমএ/এসএইচ





