ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র (জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন) এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা পরিচালনার জের প্যানেল মেয়র জেলা যুবলীগ যুগ্মআহবায়ক রেজাউল করিম জাকির কে গুম করার হুমকি দেয়ায় থানায় জিডি দায়ের করা হয়েছে।
পৌর মেয়রের পক্ষে অজ্ঞাত ব্যক্তি মোবাইল থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ফোন দিয়ে হাইকোর্ট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বা গুম করার হুমকি দেয়। এছাড়া অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও খুন জখমের হুমকি দেওয়ায় ঝালকাঠি থানায় সাধারন ডায়রী নং-২১৬ নাম্বার জিডি দায়ের করেছে।
দূর্নীতি অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগে মেয়র আফজাল হোসেনের সাময়িক বরখাস্তারে হাইকোটর্রে দেয় ৬ মাসের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা বা না থাকার বিষয়ে সুপ্রীম কোর্টের ফুল বেঞ্চে নির্ধারিত শুনানী নিয়ে এ হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে প্যানেল মেয়র জেলা যুবলীগ যুগ্মআহবায়ক রেজাউল করিম জাকির দাবী করেছে।
বিগত ২৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখ ১০ কাউন্সিলর বিভিন্ন অভিযোগে পৌর মেয়র আফজাল হোসেন ও ১নং প্যানেল মেয়র প্রনব কুমার নাথ ভানুর বিরুদ্ধে মন্ত্রনালয় অভিযোগ দায়ের করলে জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দিলে ২০ জানুয়ারী ২০১৪ অভিযোগের সত্যতা রয়েছে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করে।
দীর্ঘ ৮ মাসেও মন্ত্রণালয় পরবর্তী কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে ১১ সেপ্টেম্ভর হাইকোর্টে রীট পিটিশন নং ৮২৬৫ দায়ের করলে হাইকোর্ট মন্ত্রনালয়ের সচিব সহ ৬জনকে রুল জারী করে এবং সচিব ও যুগ্মসচিবকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পরবর্তী কি ব্যবস্থা নেয়া হয়ে লিখিত ফিরিস্থি আকারে জবাব দিতে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ০১ অক্টোবর ১৩১৫ নং স্মারকে এক প্রজ্ঞাপনে মেয়র আফজালকে সাময়িক বহিস্কার ও একই দিন ১৩১৬ নং স্মারকে কেনো তাকে অপসারনের আদেশ দেয়া হবেনা ২৫ কার্য দিবসের মধ্যে তার জবাব দেয়ার জন্য শোকজ করেন।
এ আদেশের বিরুদ্ধে মেয়র আফজাল হোসেন হাইকোর্টের রীট আবেদন (নং ৯২৩৪/২০১৪) দায়ের করলে সাময়িক বরখাস্তাদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিতা করলে গত ৯ অক্টোবর উক্ত স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে সিএমপি (নং ১১২২/২০১৪) আবেদন করেন।
১৯ অক্টোবর থেকে দফায় দফায় শুনানীর পর ২৮ অক্টোবর বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শুনানী শেষে আবেদনটি তালিকার শীর্ষে রেখে ৩০ অক্টোবর সুপ্রীম কোর্টের ফুল বেঞ্চে শুনানীর জন্য নির্দেশের দেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় নিয়ে জামায়াত চক্রের হরতালের কারনে ৩০ অক্টোবর আদালতের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। চলতি সপ্তাহে সুপ্রীম কোর্টের ফুল বেঞ্চে শুনানী সাপেক্ষ বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আশা করা যায়।
এসএইচ





