ঝিনাইদহের বারোবাজারে বরযাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও ৭০ জনের বেশি বরযাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকালে বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। গুরুতর আহত ১ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১ জন মারা যান। এ সড়ক দূর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন, শৈলকূপা উপজেলার ফুলহরি কাজীপাড়া গ্রামের সুধীর কুমার (৪০), বিপ্লব (২৫), শোভন কুমার (২), কৌশিক (৮), সুজয় (৩০), কৃষ্ণা (৩০), বন্যা (৩৫), সঞ্জয় (৩৪), সঞ্জিত কুমার (৩২) ও উজ্জল দাস (২৫)। আহতদের মধ্যে ৩০ জনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও বাকিদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি সৈয়দপুর থেকে খুলনার দিকে যাওয়াপর সময় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট আব্দুল হান্নান জানান,ভোর সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি বারোবাজার স্টেশন পার হয়। এর ৫ মিনিট পরেই বিকট শব্দ শুনে দুর্ঘটনার বিষয়টি টের পান তারা। বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঠেলে নিয়ে যায়। এ সময় আশপাশে ছিটকে পড়তে থাকেন বাসযাত্রীরা। প্রায় দেড় কিলোমিটার পার হয়ে ট্রেনটি থামানো হয়।
আহত বাসযাত্রীরা জানান,তারা ঝিনাইদহের শৈলকূপার ফুলহরি গ্রাম থেকে সনাতন ধর্মের একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে বরযাত্রী হিসেবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সাঁকো গ্রামে যান। বাসটিতে ৭০ থেকে ৯০ জন বরযাত্রী ছিলেন। ফেরার পথে ভোরে তারা দুর্ঘটনা কবলিত হন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান,শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার সাঁকো মথনপুর গ্রামের সুবল বিশ্বাসের মেয়ের বিয়ে শেষে বরযাত্রীবাহী বাস বারোবাজার রেললাইন ক্রসিং অতিক্রম করছিল। এ সময় সৈয়দপুর থেকে খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের ৩ জনসহ ৯ জন নিহত হন। ফরিদপুর যাওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন সঞ্জিত নামে একজন এবং কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ১ বরযাত্রী।
বারোবাজার হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকিমুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এলাকাবাসীও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। পরে খবর পেয়ে ঝিনাইদহ, যশোর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করেন।
এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। এখনও ট্রেনের নিচে ও দুর্ঘটনার দেড় কিলোমিটারের মধ্যে নিহত ও আহতদের কেউ পড়ে আছেন কিনা তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান জানান, উদ্ধারকৃত লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। বাসটি এখনও ট্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি রেললাইনের ওপরে থাকায় খুলনার সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
খুলনা থেকে রিলিফ ট্রেন এসে রেললাইনের ওপর পরে থাকা বাস উদ্ধার করতে এখনো ১ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। তারপর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,যশোর হাসপাতালে ভর্তি ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন।
বারোবাজারের এক বাসিন্দা জানান,রেলক্রসিংয়ে ২ জন গেটম্যান মমিন ও হুমায়ূনের ডিউটি ছিল। কিন্তু শুক্রবার তারা সেখানে ছিলেন না। তাই এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা, ১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এমআর





