দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রামের দরিদ্র পীড়িত ফুলবাড়ী উপজেলার শুধু কৃষির উপর নির্ভিরশীল হাজার হাজার কৃষকের এবার ঈদুল আযহার আনন্দ ম্লান হবে।

অর্থাভাবে এসব কৃষকের পরিবারে ঈদের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা কোরবানি দেয়ার সাধ্যটুকু তাদের ভাগ্যে জুটছে না।

একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলো জানা গেছে, কৃষির উপর নির্ভরশীল এসব কৃষকের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষি ফসল। এর মধ্যে ধান ও সবজি প্রধান উৎস হলেও বাজারে ধানের মূল্য কম থাকায় তাদের পারিবারিক খরচের চাহিদা মিটছে না। ধানের নিম্ন মূল্যে তারা পারিবারিক বাৎসরিক বাজেট পূরণে ঘাটতিতে পড়েছে। পাশাপাশি এবার এ উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষি নির্ভর এসব কৃষকের মাঝে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা পড়ে।

বাজরে সবজি বিক্রি করে অন্তত কোরবানি দেয়ার চেষ্টাটুকুতেও ব্যর্থ এখানকার কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন-নাওডাঙ্গা, শিমুলবাড়ী, ফুলবাড়ী, বড়ভিটা, ভাঙ্গামোড় ও কাশিপুরসহ অধুনালুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতি সাধিত হয় কৃষকের মোট ৯৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষেত। এর মধ্যে সবজিক্ষেত নষ্ট হয় ৫০ হেক্টর।

উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের পানিমাছকুটি গ্রামের কৃষক শামছুল হক (৫২) জানান, অতিবৃষ্টিতে তার সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় তিনি এবার ঈদে কোরবানি দেয়া নিয়ে বিপাকে পড়েন। তার পক্ষে কোরবানি দেয়া সম্ভব না।

তিনি অক্ষেপ করে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে সরকারের পক্ষ থেকে অনুদান প্রদান করা হলেও মুসলমান কৃষকদের মাঝে ঈদ উৎসবে সরকার নীরব। তিনি ঈদ উৎসবে কৃষকদের অনুদান ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর শিমূলবাড়ী গ্রামের কৃষক আল আমিন (৩০) জানান, এবার এখানে কৃষকের ঈদ আনন্দ হবে না। ধানের মূল্য কম এবং অতিবৃষ্টিতে সবজিক্ষেত নষ্ট হওয়ায় কৃষকের অর্থনৈতিক সংকটই এর মূল কারণ। সে কৃষকের এ দুর্দশা লাঘবে সরকারের সদিচ্ছা দাবি করেন।

বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা প্রতিনিধি কৃষাণী আফরিনা বেগম (৩৫) জানান, এবার ফুলবাড়ীতে ক্ষুদ্র কৃষক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ঈদ উদযাপনে ভাটা পড়বে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের মূল্য কম ও কোরবানির পশুর দাম বৃদ্ধিতে এই দুই শ্রেণির মানুষের ঈদ আনন্দ ম্লান হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ বলেন, কৃষকের উৎপাদিত ধানের মূল্য কম থাকায় এবং অতিবৃষ্টির কারণে কিছু ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকের অর্থনৈতিক ভোগান্তিতে পড়ে। বর্তমান সময়ে ধানের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও কৃষক আগেই কম মূল্যে ধান বিক্রি করায় ধানের এ মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না। বর্তমান যেটুকু ধান ঘরে আছে তা কৃষকের খাওয়ার যোগানের জন্য। তিনি সামনের দিনে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পেলে তাদের অর্থনৈতিক দুর্দশা কেটে উঠবে এমন আশা ব্যক্ত করেন।

কেএইচ