জার্মানিতে নাৎসি বর্বরতার যে নজীর সৃষ্টি হয়েছিল মিয়ানমারের সামরিক জান্তার রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান তারই পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, মানবাধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদ ও তাদের মানবাধিকার রক্ষার দাবিতে বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত নাগরিক সমাজ-এর উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুলতানা কামাল আরও বলেন, এমন নগ্ন মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ব্যাপক বর্বরতার নজীর কেবলমাত্র ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদারের নিষ্ঠুরতা ও নির্বিচার গণহত্যার সঙ্গে তুলনীয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মানিতে নাৎসি বর্বরতার যে নজির সৃষ্টি হয়েছিল মিয়ানমারের সামরিক জান্তার রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযান যেন তারই পুনরাবৃত্তি।

সুলতানা কামাল উল্লেখ করেন, মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী এবং আনুষ্ঠানিক সরকার প্রধান অং সান সু চি’র গতকাল জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর অমানবিক নির্যাতন ও হত্যার কোনো স্বীকৃতি নেই। তাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া বা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি অনুযায়ী তাদের নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস নেই।

এ সময় তিনি ভারত, গণচীন, রাশিয়া, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সকল বড় ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দের কাছে রোহিঙ্গাবিরোধী হত্যাযজ্ঞ বন্ধ এবং কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে তাদের দেশে ফেরত নেবার জন্য কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তারের আহ্বান জানান।

এমবি