রাজধানীর শাহজাহানপুরে গভীর নলকূপের পাইপের নিচ থেকে শিশু জিহাদকে উদ্ধারে ব্যর্থতার পর ফায়ার সার্ভিসে ও সিভিল ডিফেন্সকে যুগোপযোগী করতে ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে যাচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বসবে।

রাজধানীর শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে অরক্ষিত পাইপে পড়ে চার বছরের শিশু জিহাদের মারা যাওয়ার তিন দিনের মধ্যে ‘মর্ডানাইজেশন অফ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’ প্রকল্পটি অনুমোদন পেল।

বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, “জিহাদের মর্মান্তিক ঘটনাটি আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। জিহাদের মর্মান্তিক মৃত্যু, রানা প্লাজা ধস আমাদের অনেক কিছুর সঙ্গে এই শিক্ষা দেয় যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে আরও আধুনিক করতে হবে।”

সরকারি উদ্ধারকর্মীদের ব্যর্থতার পর কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে জিহাদের লাশ তুলে আনা হয়। এই তরুণদের ভূমিকার প্রশংসা করেন পরিকল্পনা মন্ত্রীও।

“যে ব্যক্তিরা এই শিশুকে উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিল, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদেরকে অফিসিয়ালি ধন্যবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

 

অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় ফায়ার সার্ভিসের জন্য উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ চারটি রেসকিউ কমান্ড ভেহিকল কেনা হবে। এছাড়াও কেনা হবে ৬০ টন ক্যাপাসিটির তিনটি এক্সকাভেটর এবং ১টি হেভি ডিউটি ক্রেইন।

অগ্নিনির্বাপন ও উদ্ধার কাজে ব্যবহারের জন্য ১২টি টোয়িং ভেহিকল, ১১০০০ লিটার ধারণক্ষমতার চারটি স্পেশাল ওয়াটার টেন্ডারও এ প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে।

অগ্নিনির্বাপন ও উদ্ধার কাজে ব্যবহারের জন্য ইমার্জেন্সি টেন্ডার নামের ৫টি ও টার্নটেবল লেডার নামের ৪টি অত্যাধুনিক গাড়িও ক্রয় তালিকায় রয়েছে।

সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করবে প্রকল্পের কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

একনেকের এদিনের বৈঠকে এটিসহ ৭ হাজার ১৭ কোটি টাকার মোট ১১টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান।

এমকে