প্রায় দুই দশকের টানাপোড়েনের পর অবশেষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ২৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পেয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলের গঠণতন্ত্র অনুযায়ী ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা থাকলেও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার দুপুরে এই বৃহৎ কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন বলে ওই সূত্র জানায়।
এদিকে, দলটির আরেক সূত্র জানায় ২৭৫ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ-কালের মধ্যেই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
কিন্তু এই কমিটিতে চৌধুরী পরিবার স্থান পায়নি বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে কমিটিতে সম্মানিত সদস্য হিসেবে যে ৫ জনের নাম রয়েছে তার মধ্যে গিয়াস কাদের চৌধুরীর নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের এক নেতা জানান, চট্টগ্রাম রাউজান থেকে তিন তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, এককালে শহীদ জিয়ার অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং এক এগারোর সংকটময় মুহুর্তে যখন বেশির ভাগ নেতা আত্মগোপনে তখন যেই গিয়াস কাদের চৌধুরীকে সভাপতি করে প্রস্তাবিত কমিটি ছিল তাকে সম্মানিত সদস্য না করায় আমরা হতাশ।
ওই নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র সবসময়ই চৌধুরী পরিবারকে বাইরে রেখে দলে সুবিধা আদায় করতে তৎপর। তাদের ষড়যন্ত্রেই এটা হয়েছে।
মহানগর বিএনপির মধ্যম সারির এক নেতা পরিচয় গোপণ করার স্বার্থে জানান, ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে এসে বিপদে পড়লে বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্ধারে সবার আগে যেই চৌধুরী পরিবার এগিয়ে এসেছিল এবং ৯৭ সালের ঐতিহাসিক লংমার্চে গিয়াস কাদের চৌধুরীর ভূমিকার কথা ভুলে গিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের কিছু দালালের একপেষে ষড়যন্ত্রের কারণেই এমন কমিটি হয়েছে। অবিলম্বে চূড়ান্ত ঘোষণার আগে এ ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপ কামনা করেন ওই নেতা।
এদিকে, অনুমোদিত কমিটি সম্পর্কে দলীয় সূত্রে জানা যায়, এতে সিনিয়র সহ-সভাপতি একজন, সহ-সভাপতি ২৯ জন, যুগ্ম সম্পাদক ১২ জন, সহ সাধারণ সম্পাদক ১৮ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ৩ জন, দফতর সম্পাদক ১জন, প্রচার সম্পাদক ১ জন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছে একজনের নাম।
এর আগে, ১৯৯৭ সালে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে সভাপতি, দস্তগীর চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ও এফএইচ খান ফজুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে নগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ২০০৪ সালে সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমকে আহ্বায়ক করে এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এবং ২০০৮ সালে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর পর ২০০৯ সালে 'সুপার ফাইভ' নামে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হলেও এসব কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট ডা. শাহাদাতের নেতৃত্বে নগর বিএনপির সর্বশেষ যে কমিটি গঠন করা হয়, সেই কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। ডা. শাহাদাত হোসেনকে সভাপতি, আবু সুফিয়ানকে সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল হাশেম বক্করের নাম ঘোষণা করে পরবর্তী একমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেয়া হয় কেন্দ্র থেকে। এরই অংশ হিসেবে ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর বিএনপির ৪১টি ওয়ার্ড কমিটির মধ্যে ৩৯টি ওয়ার্ডের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দূরত্ব ও সিনিয়র নেতাদের বিরোধের কারণে কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থমকে যায়। প্রায় এক বছরে চারটি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয় বর্তমান কমিটি।
কেবি





