ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড বিতরণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী ১ মার্চ থেকে।
প্রথম পর্যায়ে নগরীর কোতোয়ালী ও ডবলমুরিং থানার ভোটারদের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হবে। এরপর পাঁচলাইশ থানায় স্মার্টকার্ড বিতরণের কাজ শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশনের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার প্রায় ১৯ লাখ ভোটারের নিবন্ধন আছে। এর মধ্যে নগরীর কোতোয়ালী, ডবলমুরিং ও পাঁচলাইশ এলাকার ভোটারদের ৬ লাখের বেশি স্মার্টকার্ড নির্বাচন কমিশনের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে পৌঁছেছে। সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য থানার স্মার্টকার্ড মার্চ মাসের মধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনির হোসাইন খান বলেন, আগামী ১ মার্চ থেকে স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু করেতে যাচ্ছি। এ স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে.এম. নুরুল হুদা। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ওয়ার্ড ভিত্তিতে এসব কার্ড বিতরণ করা হবে।
প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি স্কুলকে কার্ড বিতরণ কেন্দ্র করা হবে। ভোটাররা সেখান থেকে কার্ড নিয়ে যাবেন। ভোটারদের জানান দিতে ১ মার্চের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্কুলের নাম ও কার্ড বিতরণের সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, স্মার্টকার্ড দেওয়ার সময় ভোটারদের কাছে থাকা বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে সেটার কার্যকারিতা নষ্ট করা হবে। এরপর নির্দিষ্ট ব্যক্তির ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। ডিভাইসের মাধ্যমে চোখের মনির ছবি নেওয়া হবে। সবগুলো প্রক্রিয়া শেষ হলে দেওয়া হবে স্মার্টকার্ড।
আগের আইডি কার্ডে ডিজিট নম্বর ছিল ১৪টি। কিন্তু বর্তমান স্মার্ট কার্ড হচ্ছে ১০ ডিজিটের। কার্ডে ভোটারদের নাম (বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষায়), পিতা মাতার নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা ও রক্তের গ্রুপসহ মোট ১৪টি তথ্য রয়েছে। প্লাস্টিকের তৈরি স্মার্টকার্ডটি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী। কার্ডের মেয়াদ হবে ১০ বছর।
প্রসঙ্গত, স্মার্টকার্ডের সাহায্যে ২২ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। আয়করদাতা শনাক্তকরণ নাম্বার পাওয়া, শেয়ার আবেদন ও বিও হিসাব খোলা, ড্রাইভিং লাইসেন্স করা ও নবায়ন, ট্রেড লাইসেন্স করা, পাসপোর্ট করা ও নবায়ন, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, চাকরির আবেদন, বিমা স্কিমে অংশগ্রহণ, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক হিসাব খোলা, নির্বাচনে ভোটার শনাক্তকরণ, ব্যাংক ঋণ, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সংযোগ, সরকারি বিভিন্ন ভাতা উত্তোলন, টেলিফোন ও মোবাইলের সংযোগ, সরকারি ভর্তুকি, সাহায্য ও সহায়তা, ই-টিকেটিং, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, আসামি ও অপরাধী শনাক্তকরণ, বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর পাওয়া ও সিকিউরড ওয়েব লগে ইন করার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার ব্যবহার করতে হবে।
মাসুম/এমবি





