মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেছেন, সরকারের সব শক্তি নিয়োগের পরও ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌ-বাহিনী, টাক্সফোর্স, মোবাইল কোর্টকে কাজে লাগিয়েও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ইলিশের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমিতে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৫ উদযাপন উপলক্ষে চাঁদপুরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী জাতীয় কর্মসূচি। কর্মসূচির প্রথম দিনে পদ্মা-মেঘনা পাড়ের বিভিন্ন জেলা ও উপকূলীয় উপজেলার জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক।
তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে জাটকা সংরক্ষণে পরিচালিত অভিযানগুলোতে শতভাগ সাফল্য আসেনি। তাই ইলিশের অস্তিত্ব রক্ষায় যে করেই হোক এ বছর অভয়াশ্রম কর্মসূচি পালন করতে হবে। জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে জাটকা রক্ষা কার্যক্রমে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শেলীনা আফরোজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. শামছুল হক ভূঁইয়া, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. জাহের, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেন, পুলিশ সুপার মো. আমির জাফর।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুর ছাড়াও লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, শরীয়তপুর জেলার পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মেয়র, চেয়ারম্যান, মৎস্য বিভাগীয় কর্মকর্তা, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা জাটকা সংরক্ষণে প্রতিবন্ধকতাসমূহ তুলে ধরেন। মন্ত্রী এসব মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গত, গত এক মাসে শুধুমাত্র কোস্টগার্ডের অভিযানেই ৪ হাজার ৪২০ কেজি ইলিশ/জাটকা জব্দ করা হয়। এছাড়া কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে ৯১ লাখ ৮৮ হাজার বর্গমিটার। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৩২ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অন্যান্য জাল জব্দ করা হয়েছে ২৫ লাখ ৫৭ হাজার বর্গমিটার যার মূল্য ১৫ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ২৬টি ইঞ্জিন চালিত কাঠের নৌকা, ৮ লাখ টাকা মূল্যের ১টি মিনি কাভার্ড ভ্যান, ৮ লাখ টাকা মূল্যের ২টি ট্রলার এবং ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৪টি স্পিড বোট জব্দ করা হয়। এসব অভিযানে ৯৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।
জেআই





