টাকা ধার না দেয়ায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা দম্পতিকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তাদের ‘ধর্ম ছেলে’ গোলাম মোস্তফা মিঠু (২৩)। হাতেনাতে ধরা পড়া মিঠু ডিবি পুলিশের কাছে এই খুনের কথা স্বীকার করেছেন।

ডিবি ওসি মাজেদুর রহমান জানান, মিঠুর সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার আবদুল হক (৬৫) এবং তার স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রায়হানুন্নেছার (৫৩) খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। এর সুবাদে তাদের কাছে ৩৫ হাজার টাকা ধার চান।
বাবার দেয়া সেমিস্টারের টাকা খরচ করে ফেলায় মিঠু ল্যাপটপ বন্ধক রেখে হলেও টাকা ধার দিতে বলেন। কিন্তু তারা টাকা দিতে অস্বীকার করেন।

এর পরই মিঠু তাদের খুনের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার রাতে একটি ব্যাগে ছুরি, চাপাতি এবং হাতুড়ি নিয়ে ময়মনসিংহ শহরের আকুয়ার ওই বাসায় প্রবেশ করেন মিঠু। কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর ঠান্ডা মাথায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন এই দম্পতিকে।

গোলাম মোস্তফা মিঠুর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাদপুর উপজেলার ছয়খাদা গ্রামে। তার পিতা ইউপি সদস্য আবু জাফর। মিঠু ময়মনসিংহের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রুমডো ইনস্টিটিউটের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসায় মিঠুর বোন একসময় ভাড়া থাকতেন। সেই সুবাদেই এই পরিবারের সঙ্গে মিঠুর সখ্য গড়ে ওঠে। খুন হওয়া দম্পতি মিঠুকে ‘ধর্ম ছেলে’ হিসেবে খুব আদর করতেন। এ জন্য মিঠুর বোন ওই বাসা ছেড়ে চলে গেলেও মিঠুর আসা-যাওয়া অব্যাহত ছিল।

নিহতদের দুই ছেলে রানা ও রাসেল ঢাকায় বসবাস করেন। নিহতদের গ্রামের বাড়ি গফরগাঁও উপজেলার ধামাইল গ্রামে।

ঢাকা, ১৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ