ঝিনাইদহ জেলা শহরের পাগলাকানাই এলাকায় ঘরে সাত দিন আটকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে নুরুন্নাহার (২৬) নামের এক গৃহবধূকে।
তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে এবং খুন্তি গরম করে যৌনাঙ্গে ছেকা দিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও সতীনের বিরুদ্ধে।
নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হননি তারা, শেকল দিয়ে ৭দিন ঘরে আটকে রাখা হয় এই গৃহবধূকে।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রতিবেশিদের সহযোগীতায় বুধবার রাতে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ স্থানীয় সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। স্বামী ও সতীন রহিমা পালিয়ে গেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গৃহবধু নুরুন্নাহারের অবস্থা আশংকাজনক। সপ্তাহব্যাপী অমানুষিক নির্যাতনের পর তার শরীরের অনেকাংশে পচন ধরেছে। নতুন ক্ষত দিয়ে ঝরছে রক্ত।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মহিতুল গ্রামের নবীর উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ১৪ বছর আগে বান্দরবান জেলার সাতকানিয়া থানার বকেরআলী বিল গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে নুরুন্নাহারের বিয়ে হয়। রিয়াজ ও রিদয় নামের ৯ ও ৮ বছরের দুটি ছেলে রয়েছে তাদের।
পেশায় ভ্যানচালক শহিদুল নিজ এলাকা ছেড়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার মোজাদ্দেদিয়া সড়কের শাহ আলমের বাড়িতে ২৫ দিন আগে ভাড়া করে বসবাস শুরু করেন। ঝিনাইদহ আসার পরেই স্থানীয় সোনারদাড়ি গ্রামের রহিমা বেগম নামের এক স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলাকে বিয়ে করে বাসায় এনে তোলেন। প্রথম স্ত্রী এ বিয়ের প্রতিবাদ করলে তাকে নির্যাতন শুরু করেন তিনি।
এমএম





