মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক বলেছেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় গৌরব। একে রক্ষায় জাটকা ও মা ইলিশ ধরা বন্ধ করতে হবে। দেশ থেকে কারেন্ট জাল উঠিয়ে দিতে হবে।

সরকার এই জাটকা শিকারের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর হবে। যারা এ ধরনের জাল তৈরি ও ব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইলিশ রক্ষায় নেয়া জাতীয় প্রকল্প ‘ইকোফিশ-বাংলাদেশ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বৈদেশিক বিষয়ক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির আর্থিক সহায়তায় আগামী ৫ বছর এই প্রকল্পটি চলবে।

অনুষ্ঠানে ছায়েদুল হক বলেন, ‘দেশের ৪০০ কিলোমিটার নদীপথে ইলিশ বিচরণ করে। এই বিচরণ এলাকায় ৪ ধরনের কারেন্ট জাল ব্যবহার করে জাটকা শিকার চলছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ো হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত মৎস্যবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থা এবং ৮টি দেশি-বিদেশি সংস্থা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের আওতায় ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মাছের আবাস ও প্রজননের স্থান রক্ষা, জাটকা ও মা মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সহায়তা দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ইকোফিশ প্রকল্পের প্রধান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের আবদুল ওয়াহাব বলেন, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। এই মাছে ভিটামিন এ, জিংক ও ওমেগা-৩ নামের খাদ্যগুণ আছে, যা বিশ্বের বেশির ভাগ মাছে নেই।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশের ২০ লক্ষ মানুষের জীবিকার উৎস ইলিশ। জাটকা ও মা মাছ ধরা বন্ধ করলে বাংলাদেশে ইলিশের সংস্থান বাড়বে। এতে ওই ২০ লক্ষ মানুষের আয় বাড়বে। ইলিশ রক্ষায় বাংলাদেশ বিশ্বে একটি মডেল তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বে ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধিতেও বাংলাদেশ ভূমিকা রাখছে।

ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশের এ দেশীয় পরিচালক ক্রেগ মেইজনারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরিফ আজাদ, ওয়ার্ল্ড ফিশের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার পেট্রিক ডুগান, ইউএসএআইডির পরিবেশবিষয়ক কর্মকর্তা নাথান সেগ।

এমএ