টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নারী শিক্ষার অন্যতম পথিকৃতের নাম লুৎফর রহমান মতিন। যিনি সপ্ন দেখতেন কালিহাতীর নারী শিক্ষার উন্নয়নে নারী জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার চিন্তা করতেন। তাঁর এই স্বপ্ন ও চিন্তা ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠা করেছেন উপজেলার একমাত্র মহিলা কলেজ লুৎফর রহমান মতিন মহিলা কলেজ।
কলেজটি প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকেই সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার দিক দিয়ে যেমন কলেজের রয়েছে সাফল্য তেমনি খেলাধূলার দিক দিয়েও রয়েছে জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য।
লুৎফর রহমান মতিন ২০০০ সালে তাঁর জন্মস্থান এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ী গ্রামে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে নিজস্ব অর্থায়নে ১ একর জমির উপর কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার ফলে কালিহাতীতে নারী শিক্ষার বিস্তার লাভ করেছে এবং নারী শিক্ষার গুরুত্ব বেড়েছে।
এমপিও ভূক্তির পূর্ব পর্যন্ত তিনি কলেজের সকল অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীর বেতন নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যবস্থা করেন। কলেজটির সুন্দর পরিবেশ দেখে যে কারো মনে ভাল লাগবে।
ছাত্রীদের পড়ালেখা করার জন্য অন্যান্য মহিলা কলেজের তুলনায় এই কলেজ অনেক নিরাপদ ও শিক্ষার মান সন্তোষজনক। এছাড়া দূরের ছাত্রীদের জন্যে কলেজের ভিতরেই রয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে সিরাজবেলা ছাত্রীনিবাস। যেখানে শতাধিক ছাত্রী নিরাপত্তার সাথে পড়ালেখা করছে।
কলেজটিতে ২৪জন শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় ১১’শ ছাত্রী পড়ালেখা করছে। কলেজের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার জন্যে যাতে দূরে যেতে না হয় সেই কথা চিন্তা করে অচিরেই কলেজটিকে ড্রিগ্রি কলেজে উন্নতি করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আর এখানেও লুৎফর রহমান মতিন তার ব্যক্তিগত আরো ২৬ শতাংশ জমি কলেজের নামে লিখে দিয়েছেন। যার মূল্য বর্তমান বাজার মূল্যে কোটি টাকার উপরে।
কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাথী আক্তার জানান, উনি (লুৎফর রহমান মতিন) স্যার কলেজটি প্রতিষ্ঠা করার ফলে আমরা বিনা বেতনে লেখাপড়া করতে পারছি। আমাদের দূরে গিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে না। তাঁর অবদান কালিহাতীর মানুষের কাছে অবিস্বরণীয় হয়ে থাকবে।
এলাকার সচেতন অভিভাবকরা মনে করেন নারী শিক্ষার প্রসারে লুৎফর রহমান মতিন জলন্ত উদাহারণ। তার প্রমাণ তাঁর প্রতিষ্ঠিত লুৎফর রহমান মতিন মহিলা কলেজ। যার ফলে এলাকার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মেয়েরা এই কলেজে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে।
লৎফর রহমান মতিন ১৯৫৩ সালের ১১ নভেম্বর কালিহাতী উপজেলার রাজাবাড়ী গ্রামের একটি দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মৃত আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, মাতা মোছাম্মত বেলা বেগম।
তিনি ১৯৬৮ সালে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭০ সালে করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে আইএসসি, ১৯৭৩ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বিএসসি এবং ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এমবিএ পাশ করেন।
তিনি প্রথমে কিছুদিন চাকুরী করতেন। পরবর্তীতে নিজেই ঢাকাতে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক, লুমান গ্রুপের চেয়ারম্যান।
তিনি বিজিএমই’র পরিচালক পদে তিনবার ও একবার সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দিায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কালিহাতী উপজেলা বিএপি’র সভাপতি।
এমকে





