নোয়াখালীর সেনবাগে উপজেলা যুবলীগের একাংশের আহবায়কের নেতৃত্বে সোমবার ও মঙ্গলবার দফায় দফায় হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ১৫ জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।
আহতদেরকে প্রথমে সেনবাগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে তাদের অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকরা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
আহতরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে এ্যাম্বুলেন্সে উঠলে আবারও তাদের কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। আহতদের মধ্যে জান্নাতুল ফৈরদাউস (৩৫), বিপ্লব (৩০), সবুজ (২৮), মহসিন (১৬), পলি (২২),নোবেল (১৮), রওশন আক্তার কাজল (৪০), শরবতের নেছা (৫০) তাহের সালমানসহ (৩০) অপরদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেলারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তিকৃতদের মধ্যে শরবতের নেছা ও জান্নাতুল ফৈরদাউসের অবস্থা আশংকাজনক।
থানাসুত্র ও এলাকাবাসী জানান, মোকাররম পৈত্রিক সুত্রে সাড়ে ৬ শতাংশ পুকুরে জমির মালিক হয়ে দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর ধরে ভোগ দখল করেছে। ওই উপজেলা যুবলীগ একাংশের আহ্বায়ক মামুন গত ৪ বছর আগে ভুয়া দলিল সাজিয়ে ওই পুকুর জমির মলিকানা দাবি করে দখল করার হুমকি দেয়। মোকাররম মামুনকে বিবাদী করে জেলা জজ আদালতে মামলা করেছে। মামলা চলমান প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় মামুনসহ তার সমর্থকরা গত সোমবার ওই পুকুরে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরা টের পেয়ে মোকাররমসহ তার ভাই ভাতিজা মামুনকে মাছ ধরতে বাধা দেয়।
এক পর্যায়ে দু’গ্রুপে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে ধারালো ধামা, দা, চাপাতি, লোহার রড নিয়ে মোকাররমসহ তার লোকজনের উপর এলোপাতাড়ি মাথায় হাতে ও সারা শরীরে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
আহত মোকাররম, বিপ্লব, সবুজ ও মহসিন জানান, ওই জমির পৌত্রিক সুত্রে মালিক হয়ে আমরা পুকুরে মৎস্য চাষ করেছি। ওই যুবলীগ ক্যাডারের নেতৃত্বে তার ২০-৩০ জন সমর্থক রড, ছোরা, চাপাতি নিয়ে আমাদের পুকুরে মাছ ধরতে যায়। তাদেরকে বাধা দিলে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এখানে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করার জন্য এ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলে আবারও যুবলীগের ক্যাডার মামুনসহ তার লোকজন আমাদেরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করছে।
মামলা করার প্রস্তুতি নিলে মামুন মোবাইলে প্রাণ নাশের হুমকি দেয় বলে তারা অভিযোগ করে।
উপজেলা যুবলীগের একাংশের সভাপতি মামুনের ফোন নম্বরে (০১৭৩৩৬০৩৬৫৪) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি।
সেনবাগ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলা যুবলীগের একাংশের সভাপতি মামুন প্রতিপক্ষের উপর হামলা করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। থানায় মামলা করলে অবশ্যই আহতরা ন্যায়বিচার পাবে।
কেএইচ





