অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট হবে ৩ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। এখনও সঠিক ফিগার নির্ধারণ হয়নি। বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগে বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে রবিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ বৈঠকে বিআইডিএস’র মহাপরিচালক কে এস এ মোর্শেদ, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন, অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ আলি, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জামান, অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনজুর ও বিআইডিএস’র নাজনীন আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী তার আলোচনায় বলেন, সরকারী যেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজস্ব একাউন্টে জমা রাখে তাদের জেল জরিমানা হওয়া উচিৎ। সঞ্চয়পত্র সুদের হার এখনও অনেক বেশি। আলোচনার মাধ্যমে এটা কমানো হবে। রেলওয়ে খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ডিসেম্বরে দেশের যে অর্থনীতির যে অবস্থা ছিল তাতে আমরা আশাবাদী ছিলাম এবার ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু গত তিন মাসে যে ঝামেলা চলছে তাতে লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় আছে।

বৈঠকে ড. বিনায়ক সেন বলেন, মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল (এমডিজি) অর্জন বিষয়ে একটি প্রতিবেদন বাজেটে থাকতে পারে। এসডিজির বিষয়ে নির্দেশনা থাকতে পারে। ২০২১ সালের মধ্যে অতিদারিদ্র্য শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে। তিনি রেল ও শহরাঞ্চলে চলাচলকারী পাবলিক বাস সেবা উন্নত করার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কেএসএ মোর্শেদ বলেন, জ্ঞানের দক্ষতা বাড়াতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না। এ জন্য উচ্চশিক্ষায় দক্ষতা ও গবেষণা বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ বলেন, এবারের বাজেট অন্য প্রেক্ষাপটে হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার কারণে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সবাই চায় সহায়তা পেতে। এক্ষেত্রে লবিভিত্তিক প্রণোদনা না দিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রণোদনা দেওয়া উচিৎ। ব্যাংকগুলোর ঋণ ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জামান বলেন, ‘বিনিয়োগ বোর্ডকে ঢেলে সাজাতে হবে। সরকারের রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভ্যাট আইন কার্যকর করার দিকে নজর দিতে হবে।’

এমকে