গালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামালের শেল্টারে ও আ’লীগের নাম ভাংগিয়ে কামাল হাওলাদার ওরফে ভাইগ্না কালাম ও তার সহযোগী একটি সন্ত্রাসী চক্র মাদক ব্যবসা ও জুয়ার হাট বসিয়েছে বলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ করা হয়েছে। মামা এএসপি হওয়ার সুযোগে ভাইগ্না কালাম রাজাপুর থানা পুলিশের দহরম-মহরম রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলার শেষ প্রান্তে গাজীর হাট এলাকা ঘিরে এই বেপরোয়া মাদক ব্যবসা ও জমজমাট জুয়ার আসর চললেও এলাকাবাসী এক প্রকার দৃষ্টি, মুখ ও বধি প্রতিবন্ধীর ন্যায় দিন কাটাচ্ছে। তাই এ চক্রের বেআইনী কর্মকান্ড থেকে এলাকাবাসী ও যুব সমাজকে রক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, ডিআইজি, ঝালকাঠি-১ আসনের এমপি সহ উর্ধতন কর্তপক্ষের কাছে এলাকাবাসী লিখিত আবেদন জানিয়েছে।
এলাকাবাসী সাক্ষরিত লিখিত আবেদন উল্লেখ করা হয়, ভাইগ্না কালামের সাথে রাজাপুর থানার ওসি’র সাথে রহস্য জনক সখ্যতা ও অধিকাংশ অফিসারের সাথে প্রকাশ্যে উঠ-বসের কারনে থানাকে তার মামু বাড়ী বলে দম্ভক্তি করায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। রাজাপুর-কাঠালিয়া-ভান্ডারিয়া সীমানার গাজীর হাটের ভৌগলিক সুযোগ নিয়ে ভাইগ্না কালাম ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শেল্টারে মাদক ব্যবসার নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিনত করেছে।
ইউনিয়নের আ’লীগ-বিএনপির কয়েক নেতা জানায়, ইতিপূর্বে অস্ত্র আইনে একটি মামলার ঘটনায় গালুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্ধা আঃ খালেক হাওলাদারের পুত্র ভাইগ্না কালামের নাম উঠে আসলেও অর্থের জোড়ে ও এএসপি মামার প্রভাব খাটিয়ে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে সক্ষম হয়েছে। তাই ভাইগ্না কালামের বিরুদ্ধে মুখ খুললে উল্টো হামলা-মামলা শিকার হওয়ার ভয়ে এলাকাবাসী দেখেও না দেখার, শুনেও না শোনার ভান করে মুখবদ্ধ রাখে।
এ ব্যাপারে কালাম এসব অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা-বানোয়াট দাবী করে বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদে তিনি মাত্র ৬ ভোটে হেরেছেন এবং সামনের নির্বাচন করবেন তাই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় নারীলোভী দেলোয়ার ক্বারী, ব্যকিগত কারনে শাহআলম ও যুবলীগ নেতা ফকরুল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার মামা পিরোজপুরের এএসপি হলেও সে কোন দিন কোন অন্যায়-অপকর্ম প্রশ্যয় দেয়নি।
তিনি বলেন, আমার সাথে ৫নং ওয়ার্ডের জহিরুল হক পনু গাজীর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক থাকায় তার ওখানে ১২মাস চলা জুয়া ও বৌড্ডা খেলার সাথে আমাকে জড়িয়ে দোষারোপ করা হচ্ছে। তিনি বলেন আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত থাকলেও গত ২০০৮ সালে আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি সৌদিআরব চলে যান। তবে হঠাৎ বাবা ও মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে এসে জমিজমা দেখাশুনা করছে বলে জানান।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে খোজ নিলে অফিস সূত্র জানায়, বিষয়টি দ্রুতো আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়ে রাজাপুর থানার ওসিকের কাছে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানান। অন্যদিকে রাজাপুর থানার ওসি মাসুদুজ্জামান ‘এএসপির তদবীর ও বিতর্কিত কালামের সখ্যতার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন এবং তদন্ত চলছে বলে জানান। তিনি সাংবাদিকদের এ নিয়ে কোন সংব্দা না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
এসএইচ





