মিরপুরের কালশীতে বিহারী ক্যাম্পে দুপক্ষের হানাহানিতে ১০টি তাজা প্রাণ ঝড়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সাংসদ ইলিয়াস মোল্লাকে দায়ী করেছেন স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানিস জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি (এসপিজিআরসি) বাংলাদেশের তথ্য ও বার্তা সম্পাদক শামসাদ শাকিল।

তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী টিনশেড বস্তিতে ওই সংসদের ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার থাকেন। বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে কিছুদিন আগে জেলাপ্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সেখানে একটি জরিপ চালানো হয়।ওই জরিপের পর বিদ্যুৎ অফিস থেকে বলা হয়, এখন যে পরিমাণ লোড আছে তাতে বিহারী ক্যাম্পে বিদ্যুৎ থাকবে কিন্তু টিনশেড বস্তিতে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া সম্ভব না।’

শাকিল বলেন, ‘এরপর ইলিয়াস মোল্লা মিরপুর ১২ নম্বর অবাঙালী ক্যাম্পের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন ঘন্টুকে বলেন, টেন শেড বস্তিতে তার লোকেদের বিদ্যুতের সংযোগ দিতে।’

শাকিল অভিযোগ করেন, ঘন্টু সংযোগ দিতে তার অপারগতার কথা জানানোর পরে ইলিয়াস মোল্লা তার নামে মিথ্যা মামলা দেন।

শাকিল বলছেন, ‘আজ সকালেও পটকার বাহানা দিয়ে এই সংঘর্ষ বাঁধিয়েছেন সাংসদ ইলিয়াস। সকাল এতগুলা মানুষ মারা গেলে অথচ তিনি একবার দেখতেও আসলেন না, কী অবস্থা সেখানে।’ 

শাকিল বলেন, ‘এ থেকেই বোঝা যায় এ ঘটনায় তার হাত রয়েছে।’ 

কাশলীর ঘটনা নিয়ে ইলিয়াস মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার ব্যাক্তিগত সহকারী বাবু বলেন, তার অবস্থান কোথায় তা আমরা জানি না। গত রাতে তিনি শবে বরাতের নামাজ পড়েছেন। তাই হয়তো ঘুমাচ্ছেন। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কজন বিহারী বলেন, আমরা আছি উভয় সঙ্কটে। আমরা যদি টিনশেড বস্তিতে বিদ্যুতের লাইন নিতে দেই তাহলে আর্মিরা সেই সংযোগ কেটে দেয়। আবার যদি না নিতে দেই তাহলে আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাদের উপর হামলা করে।

সংবাদকর্মীদের উপরও ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ‘আপনারা মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছেন। টিভিতে বলছেন, আমরা হামলা চালিয়েছি। আমরা তো একটি ইটও মারিনি কাউকে।’

সর্বশেষ বেলা ১টার দিকে কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন তারা। সূত্র: বাংলামেইল।

ঢাকা, ১৪ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস