অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুরের সবজি চাষিরা। পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে না পারায় জমিতেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত শাকসবজি। বাইরের জেলায় বাজারজাত করতে না পেরে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সবজি ব্যবসায়ীরা।

এ দিকে একই কারণে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন জেলার কৃষি শ্রমজীবীরা। জানা গেছে, দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদনকারী জেলা মেহেরপুরে বছরের বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করা হয়।

বর্তমানে শীতকালীন সবজি তোলার শেষ সময় চলছে। এখানে উৎপাদিত সবজি মেহেরপুর জেলা শহরসহ রাজধানী ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বিরোধী জোটের টানা অবরোধের কারণে পণ্যবাহী যানবাহন ঠিকঠাক চলাচল করতে পারছে না। ফলে ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, টমেটো, বেগুনসহ নানা জাতের শীতকালীন সবজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এ জেলার চাষিরা।

অবরোধে যানবাহন চলাচল না করায় অনেকটা ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে জেলার পাইকারি বাজারগুলো। ফলে সবজি খেতেই নষ্ট হচ্ছে। বেশির ভাগ কপি চাষি খেত ছেড়ে দিয়েছেন। কপি এখন গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানালেন চাষিরা।

জেলার সবজির প্রধান গ্রাম সাহারবাটির চাষি তহসিন আলী জানান, অবরোধে ট্রাক মালিকরা ঢাকায় ভাড়ায় যেতে চাইছেন না। আবার যারা যেতে রাজি হচ্ছেন, তারা ভাড়া চান দ্বিগুণ। আগে যেখানে ট্রাক ভাড়া ছিল ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, এখন সেই ভাড়া ১৭ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে সবজি বিক্রি করে ট্রাক ভাড়া পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাব মতে, মেহেরপুর জেলায় এবার শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে প্রায় তিন হাজার ২৮ হেক্টর জমিতে। এখন মাঠে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, পুঁইশাক, লালশাক, বেগুন ও আলুর মতো নানা জাতের সবজি।

এমকে