নির্বাচন কমিশনের ভুলেই দেশজুড়ে আলোচনায় চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ফলাফল। ইসির মতো একটি প্রতিষ্ঠান কি করে এমন ভুল করতে পারে তা নিয়েও এখন উপজেলার সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টিকে তুঘলকি উল্লেখ করে বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন গণম্যামে সংবাদ প্রচারের পর নির্বাচনটি জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে আসার পর তা ‘টক অব দি মাটিরাঙ্গায়’ পরিণত হয়।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ও রিটার্নিং অফিসারের প্রেরিত ফলাফল বিশ্লষণে ইসির দেয়া তথ্যে ভুল ধরা পড়ে। মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন অফিস ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের তথ্যমতে বেলছড়ি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৮ হাজার ২’শ ৬৬ হলেও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বিজয়ী প্রার্থীর প্রাপ্ত ৩ হাজার ১শ’ ২৮ ভোটকে ওই ইউনিয়নের মোট ভোটার হিসেবে দেখানো হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী চার প্রার্থীর প্রাপ্ত ৬ হাজার ৩৯ ভোট ও অবৈধ (বাতিল) ৯৬ ভোটকে হিসাব করে ১৯৬ ভোট পড়েছে বলে ইসি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের ফলাফলের তথ্যমতে বেলছড়ি ইউনিয়নে ভোট পড়েছে ৭৭ শতাংশ। ইসির এমন তুঘলকি হিসেবে তাদের দাযিত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, বিষয়টি আমাকে মারাত্মকভাবে বিব্রত করেছে। ইসির ভুলে নির্বাচনের ফলাফলটাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

তাদের মতে ইসির এমন ভুলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ‘বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে’ নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের এমন বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এটি প্রিন্টিং মিসটেক। এজন্যই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

এমই