প্রায় এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। ধনী-গরীব, ছোট-বড় সব ভুলে ভাতৃত্বের বন্ধনে একাকার হয়ে যাওয়ার দিন। সারাদেশে মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্ষে আজ দিনটি পালন করছে। এই দিনে সকল দুঃখ বেদনা ভুলে রোজা থেকে শিক্ষা নিয়ে চলার জন্য মুসলমানরা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়।
সারাদেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানরাও আজ ঈদ পালন করছে। তবে তাদের ঈদ অন্যান্যদের থেকে আলাদা। সবার ঈদ আনন্দের হলেও তাদের ঈদ স্মৃতি আর অশ্রু বিজড়িত। নিজ দেশ ছেড়ে আরেক দেশে ঈদ পালন কতটুকুইবা মধুর হতে পারে।
তাদের আনন্দের মাঝে কেমন যেনো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ছাপ এখনো রয়ে গেছে। ২০১৭ সাল থেকে এই নির্যাতনের ছাপ নিয়ে তারা ঈদ পালন করে আসছে বাংলাদেশে।
ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও এবারও তারা সেই অশ্রু বিজড়িত ঈদ পালন করছে। জানা যায় বুধবার (৫ জুন) সকাল ৮টায় কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে ছোট-বড় ১০টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে কক্সবাজারের আরও ৩০টি রোহিঙ্গা শিবিরে ঈদের জামাত হয়েছে।
এসব জামাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো রোহিঙ্গা অংশ নেন। এসব রোহিঙ্গারা ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা নির্যাতনের বিচায় চেয়ে ও স্বদেশে মর্যাদার সঙ্গে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন।
ক্যাম্পে শিশুরা সকাল থেকেই নিজের পরিষ্কার জামা-কাপড় পরে সেজেগুজে ক্যাম্পের রাস্তায় হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দে মেতে উঠে।
তবে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর মধ্যে বর্ষীয়ানদের মধ্যে ছিল স্বজনহারানোর আক্ষেপ আর হতাশা। অনেককে যন্ত্রণায় কাদঁতে দেখো গেছে। কেন না অতীতে যাদেরকে নিয়ে ঈদ করেছিলেন, এবার তারা অনেকেই শুধু স্মৃতি।
রোহিঙ্গা শিবিরের আশপাশের কয়েকটি জায়গায় নাগরদোলা, চড়কিসহ মিনি মেলা বসতে দেখা গেছে। এর আয়োজক মোহাম্মদ কামাল (৩৫) জানান, এই মেলা কমপক্ষে তিন দিন থাকবে। গত বছরের তুলনায় শিশুরা এই বছর বেশি আনন্দ করছে।
২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট কোরবানি ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী সংগঠন আরসা রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নিপীড়নমূলক অভিযান শুরু করে। নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে পুরনোসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। তবে বহিরাগমন বিভাগ ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সূত্র মতে এ পর্যন্ত ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন শেষ হয়েছে।
জেড





