সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ‘ছাত্র, শিক্ষক ও সংস্কৃতি কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের জঙ্গিবিরোধী যোগ্য দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘জঙ্গিবাদ দমনে সাংস্কৃতিক জাগরণ’- শীর্ষক তিন মন্ত্রণালয়ের যৌথসভার শুরুতে সংস্কৃতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবিরোধী সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালনে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার সাংস্কৃতিক কর্মীর শক্তিকে একত্রিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। যার মাধ্যমে আমাদের কোমলমতি শিশু সন্তানরা যোগ্য দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ ইস্যুতে এখন আর উদাসীন হয়ে বসে থাকার সময় নেই। জঙ্গিবাদ বিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগ এখন থেকে সংস্কৃত, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সঙ্গে বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এ জন্য আমরা শিক্ষার সঙ্গে এটা যুক্ত করতে চাই। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানেই শুধু নাচ গান করা না, অন্য কিছু।
নাহিদ আরো বলেন, দেশ আজ জঙ্গিবাদসহ নানা সংকটে। এ সংকট নিরসনে বিভিন্ন পর্যায়ে সভা করেছি। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছি। নানামুখী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের সঙ্গে আমরাও সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন। এ অবস্থা থেকে আমরা উত্তরণের চেষ্টা করছি। উত্তরণ না ঘটাতে পারলে সভ্য জাতি হিসেবে আমরা আবার পিছিয়ে পড়ব।
তিনি আরো বলেন, দেশের ৬৩ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। সেখানে আমরা আমাদের মতো করে জঙ্গিবাদবিরোধী নানা কর্মসূচি দিয়েছি। সেগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আগে আমাদের ধারণা ছিল মাদরাসায় জঙ্গি তৈরি হয়। এখন দেখছি উচ্চ শিক্ষিত লোকও জঙ্গি হয়। আগে গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থায় আমাদের কোথাও গলদ ছিল।
তিনি আরো বলেন, শিশুদের জঙ্গিবিরোধী হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের উদ্যোগের সঙ্গে পরিবারকে যুক্ত করতে চাই। এটা করতে পারলেই আমরা প্রকৃত মানুষ পাবো।
সভায় অংশ নেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, লাকী ইনাম, ইনামুল হক, চিত্রনায়ক ফারুক, রফিকুন নবী (রনবী), কবি আব্দুস সামাদ, হাসান আরিফ প্রমুখ।
এফএফ





