বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনে দখলদার সরকারের পদত্যাগ ও র্নিদলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের দাবীতে ২০দলীয় জোটের ডাকে দেশব্যাপী চলমান অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি সফল করায় নগরবাসীকে অভিনন্দন।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিনন্দন জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০দলীয় জোটের আপোষহীন আন্দোলনে দিশেহারা হয়ে সরকার সারাদেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। টানা প্রায় দু’মাসের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হলে তা এক সপ্তাহের মধ্যেই গুটিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল সরকার।
আন্দোলন ঠেকাতে অব্যাহত গণহত্যা, গুপ্তহত্যা, দেখামাত্র গুলি ও গণগ্রেফতার চালালেও এই জুলুমের বিরুদ্ধে জনতার সংগ্রাম আরো শাণিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী চলমান আন্দোলনকে জাতীয় সংকট বলতে বাধ্য হচ্ছেন। শিগগিরই তারা জনগণের কাছে পদত্যাগে ও বাধ্য হবে।
মাওলানা খান আরো বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হিসেবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার নিজেই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস শুরু করেছে। দেশের মাটিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পরিবেশ না থাকার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গাছের ডালে বসে ২৪ ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি পালনকারী জালালকেও আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
সরকারের অব্যাহত গণহত্যা, গণনিপীড়নের কারণে সারাদেশে যখন শাসকদলীয় ক্যাডাররা জনরোষের ভয়ে সতর্ক হয়ে চলছিল তখন এই বিচলিত সন্ত্রাসীদের মনোবল ফেরাতেই মন্ত্রীরা বিভিন্ন প্রলোভন দিচ্ছে।
তারা বলছে আন্দোলনকারীদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলে লাখটাকা পুরষ্কার দেয়া হবে। মহানগরীর সংগ্রাম কমিটির সদস্যদের এই সরকারী টাকা লুটেরা ঘাতকদের প্রতিহত করতে কার্যকর কৌশল নির্ধারণের আহবান জানান তিনি।
মাওলানা খান বলেন, লুট হওয়া গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে, গুম-খুনের এই বধ্যভূমিতে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে ২০দলীয় জোটের চলমান সংগ্রাম সফল করতে সর্বস্তরের নগরবাসীকে আরো সর্বাত্বক লড়াইয়ে নামার আহবান জানান তিনি।
তিনি বলেন, অবিরাম আন্দোলনে সরকার দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাই জোটের শীর্ষনেতৃত্বকে আটক করার বাহারী চক্রান্ত করছে। এমন পরিস্থিতিতে গণমিছিলে সবাই রাজপথে নেমে আসলেই ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলন বিজয়ধারায় প্রবাহিত হবে। স্বাধীনতার মাসেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম বিজয়ী হবে। জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে প্রতিটি কর্মসূচি সফল করে বর্তমান প্রজন্মকে নতুন ইতিহাসের নির্মাতা হবার গৌরব অর্জনের আহবান জানান তিনি।
আন্দোলন দমনের নামে নেতা-কর্মীদের বেআইনী আটক ও তাদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে চলমান অবরোধের পাশাপাশি বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত হরতাল ও বৃহষ্পতিবার মহানগরীর সকল ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শান্তিপূর্ণ গণমিছিল পালনের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
এমকে/কেএইচ





