প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা মানুষ ঘুন করে তাদের সঙ্গে কোন আলোচনা নয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনাকে যদি কেউ খুন করতে চায়, আর সে হাতেনাতে ধরা পরে। তাহলে আপনি কি তার বিচার চাইবেন না? যদি বলি আসুন তার সঙ্গে আলোচনায় বসুন তাহলে সেটা কে করবে?
বৃহস্পতিবার বিকালে ইতালিতে আসেম সম্মেলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন।
লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ইসলামি দলসমূহের হরতালের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হরতাল দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যাবস্থা নিয়েছি। তাকে মন্ত্রীসভা থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি শোকজের জবাব দিয়েছেন। আগামীকাল দলের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা বলেন, আসেম সম্মেলনে আমি বলেছি, জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই। তাদের কোনো দেশ নেই। জঙ্গিদের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার জন্য বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ যে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাও তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মিডিয়া স্বাধীনতা পাচ্ছে। এতো স্বাধীনতা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে পায় না। অবশ্য স্বাধীনতার ব্যাপারটি টিভি খুললেই দেখা যায়। টিভি চ্যানেলগুলো সব সময়ই সরকারের সমালোচনা করতে থাকে।’তিনি জানান, এখন দেশে ২৬টি চ্যানেল চলছে, আরো বেশ কিছু পেন্ডিং রয়েছে। মোট ৪৮টি টিভি চ্যানেলের প্রস্তাব যাচাই বাছায় করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বন্ধুপ্রতীম অন্যান্য দেশের রাষ্ট্র প্রতিনিধিদের সাথে আমার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এরপর বর্ধিত ইউরোপের জলবায়ু পরিবর্তনে অংশীদারিত্ব। ওই দিন রাতে আমি নৈশভোজে অংশ গ্রহণ করি। ওই অনুষ্ঠানে আমার বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সাথে কথা হয়। পরের দিন জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্কট মোকাবেলায় করণীয় বিষয় নিয়ে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অগ্রগতির ব্যাপারে সবাই আমাদের প্রশংসা করেছেন। আমার সফর সঙ্গী যেসব ব্যবসায়ীরা গিয়েছিলেন তারা ওখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময় করেন। পাশাপশি বিনিয়োগের জন্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও স্বাক্ষরিত করেন।’
যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌ ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নতী হয়েছে। দিনে এবং রাতে ঢাকা শহর ঘুরে দেখলে অবশ্যই ঢাকার উন্নতী চোখে পড়বে। পদ্মাসেতু নির্মাণ আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা নিজ অর্থায়নে সে কাজ শুরুও করেছি। ঢাকা-ময়মনসিংহ , ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪ লেন হচ্ছে। গ্রামে গঞ্জেও রাস্তাঘাট হচ্ছে। তবে যে গুলি বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়েছে সেগুলোও ঠিক করা হবে।’
তথ্য ও প্রযুক্তি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন হয়েছে। বিল পেমেন্ট থেকে শুরু করে সব কাজ এখন মোবাইলে করা যাচ্ছে। মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির ২০০ রকম সেবা পাচ্ছে। অবশ্য এ জন্য আপনারা অলস হয়ে যাচ্ছেন। ৩জি এর কাজও বেশ ভালোভাবেই চলছে। এ দেশে ১১ কোটি সিম ব্যবহার হচ্ছে। ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।’
শিক্ষাখাতের উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘ছিয়ানব্বইয়ে আমরা পাসের হার ৬৫ ভাগ করেছিলাম। কিন্তু পরে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেটাকে ৪৬ ভাগে নামিয়ে এনেছিল। এবার ক্ষমতায় এসে সে হার বাড়িয়ে আবারও আমরা প্রায় ৭০ ভাগে এনেছি। আমরা মনে করি শিক্ষা আমাদের বিনিয়োগ। এই ক্ষাতে আমরা যত বেশি অর্থ ব্যয় করবো এটা ততো বেশি ফিরে আসবে। ৭৫ ভাগ মেয়েকে আমরা ব্যচেলার পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন ৬৪ ভাগ মানুষ বিদুৎ পাচ্ছে। আগামীতে ১০০ ভাগ মানুষকেই আমরা বিদ্যুতের আওতায় আনবো। নেপাল ও ভুটানের সাথে আলোচনা চলছে। মানুষের যত বেশি আর্থিক উন্নতি হচ্ছে, ঠিক তত বেশিই বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো। ইনশাল্লাহ আমার তার আগেই আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাব। জাতির জনকের যে স্বপ্ন ছিল, এই বাংলাকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা। সে স্বপ্ন আমরা পূরণ করেছি।’ বাঙালী কথা না বলে থাকতে পারে না।
জেএ





