দশম সংসদের প্রথম অধিবেশনে কোরাম-সংকট অষ্টম ও নবম সংসদের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। তবে এবারের কোরাম-সংকট ছিল ১৭ ঘণ্টা সাত মিনিট। এর অর্থমূল্য আট কোটি টাকা।
আজ (সোমবার) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি) বাংলাদেশ দশম জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট ওয়াচ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এবারের অধিবেশনে সাংসদদের গড় উপস্থিতি ৬৪ শতাংশ। এই অধিবেশনে মোট ৩৬ কার্যদিবস সংসদ পরিচালিত হয়। এতে সময় ব্যয় হয় ১১৩ ঘণ্টা ৫১ মিনিট। সংসদ নেতা উপস্থিত ছিলেন ৩২ দিন। বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতি ১৪ দিন। আর মন্ত্রীদের উপস্থিতি ছিল ৫১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের ১৬৫ জন ও বিরোধী দলের ৩৩ জন।
এবারের অধিবেশনে নির্বাচনী এলাকার বক্তব্য, নবম সংসদের বিরোধী দলের সমালোচনা, নিজ দলের প্রশংসা, ব্যক্তি ও পারিবারিক বিষয় উপস্থাপন, প্রয়াত একজন রাষ্ট্রপতির সম্পর্কে অসাংবিধানিক ভাষার ব্যবহার, সংসদ নেতার বক্তব্যের বিষয়, নবম সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সমালোচনা এবং এই সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করা হয়।
আইন প্রণয়নে ব্যয় হয়েছে মোট সময়ের ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিরোধী দল সরকারের অংশ হয়ে গেছে। এ জন্য তারা আত্মপরিচয় সংকটে রয়েছে। তারা বিরোধী দল, নাকি সরকারি দল? তিনি বলেন, সংসদে সরকারি দলের প্রশংসা বেড়েছে ও বিরোধীদের সমালোচনা বেড়েছে। অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। যার বিষয়ে রুলিং দেননি স্পিকার।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান বিরোধী দল শুধু নামে আছে। নিজেদের এক ধরনের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিরোধী দল হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। বিরোধী দল হিসেবে যে ধরণের শক্তিশালী ভূমিকা পালন করা দরকার ছিল তা পটরিলক্ষিত হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদে একটি অভূতপূর্ব অবস্থা বিরাজ করছে। সংসদ হিসেবে সকল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হলেও আমরা এ সংসদকে কার্যকর সংসদ বলতে পারি না।
বর্তমান সংসদের প্রাক্তন বিরোধী দলকে অনেক অশালীন ভাষায় মন্তব্য করা হলেও স্পিকার তার অবস্থানে নিরব ছিলেন। এ কারণে স্পিকারের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ এবং অকার্যকর বলে উল্লেখ করেন ড. ইফতেখার।
টিআইবির চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল পার্লামেন্ট ওয়াচ কেন—ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, স্বচ্ছ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এবং নজরদারির জন্য এই পার্লামেন্ট ওয়াচ। সরকারের সমালোচনা করার জন্য নয়। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে সংসদে আইনজীবী ছিলেন ৩৩ শতাংশ আর ব্যবসায়ী ছিলেন ১৮ শতাংশ। এখন ব্যবসায়ী ৬০ শতাংশ ও আইনজীবী ১৩ শতাংশ। এ জন্য জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে সংসদে আলোচনা হয় না। বরং ব্যবসায়িক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল আরও বলেন, সংসদের মূল কাজ হলো জনস্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। আর এই আইন পাশ করতে দরকার বিষদ আলোচনা। কিন্তু বর্তমান সংসদে আইনপাশের ক্ষেত্রে বিষদ আলোচনার ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। যে সব আইন প্রণয়ন করতে দেখা গেছে তা শতকরা দুই ভাগও বাস্তবায়ন হয় না। সংসদের বেশি সময় ব্যয় হয় সরকারি দলের প্রশংসায়।
ঢাকা, জেইউ, ০৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) কেবি





