ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেছেন, ‘দেশে ১০ হাজার গৃহহীন পরিবারের ৬০ হাজার মানুষের জন্য সুদৃশ্য ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সরকার। গৃহহীন পরিবার ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে পুনর্বাসনের কাজ চলমান রেখেছে।’

শুক্রবার পাবনার ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়ন, পৌর এলাকা ও ছলিমপুরের বড়ইচারা গ্রামে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় নির্মিত নতুন পাকা বাড়ি হস্তান্তর শেষে ছলিমপুরের বড়ইচারা গ্রামে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ২০০৯-২০১৩ সময়ে সরকার বিনামূল্যে জমিসহ ঘর নির্মাণ করে ৬০ হাজার গৃহহীন মানুষকে পুনর্বাসন করেছে। এবারও সরকার তা অব্যাহত রেখেছে। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাই করে দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অস্বচ্ছল গৃহহীন মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এদেশে এর আগে পাঁচ লাখ মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত হয়েছে।’

শামসুর রহমান শরীফ বলেন, ‘প্রতিটি গৃহহীনের জন্য বাড়ি করার কাজ আমরা শুরু করেছি এবং তা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। বঙ্গবন্ধুর আদেশ ও প্রধানমন্ত্রীর পরিস্কার কথা, বাংলাদেশে সবার জন্য মাথা গোঁজার ঠাই নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নারী-পুরুষ প্রত্যেকের জন্য কর্মসংস্থান, সবার জন্য শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান আল্লাহর দেয়া পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে দেশকে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রের সারিতে দাঁড় করাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

এর আগে, মন্ত্রী সাড়া ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা মৃত আবদুস সাত্তার, ঈশ্বরদী পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম মিন্টু এবং ছলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিনের হাতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এলজিইডির ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নকৃত বীর নিবাসের চাবি হস্তান্তর করেন।

এ সময় ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান মুখলেছুর রহমান মিন্টু, ঈশ্বরদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ নেওয়াজ, ঈশ্বরদী নির্বাহী প্রকৌশলী রুমেল হায়দার, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিমান কুমার দাস, ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আ. বাতেন, ঈশ্বরদী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুর রাজ্জাক, ডেপুটি কমান্ডার আ. খালেক, তহুরুল ইসলাম, ফজলুর রহমান ফান্টু, আ. খালেক বিশ্বাস, জয়নাল উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ