নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সন্তান প্রসবের অনুমতি মিলেছে এক গর্ভবতী নারীর। তার নাম ফিরোজা বেগম (২২)বলে জানা যায়।

শনিবার বিকেলে তার মা আজিয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন।

জানা যায়, ৯ মাসের গর্ভবতী ওই নারীর প্রচণ্ড প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে স্বামীর অনুমতি না থাকায় অপারেশন করতে রাজি হয়নি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

ফিরোজা বেগমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার স্বামী অন্য আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে চলে যাওয়ায় এ বিপত্তির সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে তার মা আজিয়া বেগম জানান, তারা ফতুল্লার রেল স্টেশন এলাকায় থাকেন। তিনি বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজ করেন এবং সংসার চালান। তার মেয়ে ফিরোজা বেগমের সঙ্গে বছর পাঁচেক আগে মুন্সিগঞ্জ সদরের গোপপাড়া এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে ইকবালের (২৬) বিয়ে হয়।

তিনি জানান, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে মেয়ের জামাই ইকবাল ২০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু গত কয়েক মাস আগে আবারো ২০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে সে। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে ছেড়ে চলে যায় সে। এরপর সে গত ৩ মাস আগে অন্য নারীকে বিয়ে করে সাভারে চলে যায়।

তিনি জানান, এর পর থেকে তার স্বামী ইকবালের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এদিকে তার মেয়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফিরোজার প্রচণ্ড প্রসব বেদনা উঠলে শুক্রবার রাতে প্রথমে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।

তিনি জানান, কিন্তু ঢামেকের চিকিৎসকরা স্বামীর অনুমতি ও স্বাক্ষর ছাড়া অপারেশন করতে রাজি হয়নি।

তিনি জানান, এরপর শনিবার ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানেও কোনো চিকিৎসক অপারেশন করতে রাজি না হওয়ায় পরে একটি ক্লিনিকের ডাক্তারের পরামর্শে থানায় জিডি করা হয়।

আর এ জিডির পরেই ডাক্তার অপারেশন করতে রাজি হয়েছে এবং এর প্রেক্ষিতে তার মেয়েকে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হবে বলেও জানান তিনি।

ফতুল্লা মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই গোলাম মোস্তফা জিডি দায়েরের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ