নওগাঁর রাণীনগরে মাত্র ২৫ শতক জমির দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আমজাদ হোসেন ৩৫) নামের একজন নিহত হয়েছে। এ সময় নারী-পুরুষসহ আরো ১১ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার জেরে স্থানীয় জামায়াত সমর্থিত ১৩টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে ৬০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করেছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার ভিযোগে ৫ জনকে আটক করেছে।

রোববার এ ঘটনা ঘটে রানীনগর উপজেলার বোহার গ্রামে।

রাণীনগর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানিয়েছেন, ঐ গ্রামের আমজাদ হোসেনের সাথে মোজাফ্ফর হোসেনের র্দীঘদিন ধরে ২৫ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার সকাল ৮টায় আমজাদ হোসেন বিবাদমান জমি দখল করতে গেলে মোজাফ্ফর হোসেন তাকে বাধা দেয়।

এ সময় উভয়ের মধ্যে মারপিট শুরু হয়। মারামারিতে মোজাফ্ফর হোসেনের পিতা শফির উদ্দীন (৫৫) ছুরিকাহতসহ উভয়পক্ষের নুর উদ্দীন (২৮), আব্দুর রহমান (৭০), হবিবর রহমান (৫৫) বুলু আহম্মেদ (৩২), মজনুর রহমান (৩৮), ফজলুর রহমান (৩০), নজরুল ইসলাম (২৬), আমজাদ হোসেনের মা আনোয়ারা (৬৫) স্ত্রী ফাইমা বিবি (৩০) ও কন্যা লাকি আক্তার রিপা (১৮) আহত হয়।

এদের মধ্যে আমজাদ হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আদমদিঘী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।

নিহতের স্ত্রী ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে রানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ সময় আওয়ামী ক্যাডারদের দেয়া আগুনে আমজাদ হোসেন, ইউসুফ আলী, আব্দুল মজিদ, নজরুল, নুরুল, শামসুদ্দীন, হবিবর, মাজেদুর, বুলু, দুলু, মোজাফফরের বাসায় আগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটে ৬০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করেছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত আমজাদ, ইউসুফ, নজরুল দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় রানীনগর থানা পুলিশ এনামুল হক, শফিকুল ইসলাম ফটক, হাবীবুর রহমান, বুলু ও মোকছেদ আলী নামের ৫ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, একটি দাখিল মাদরাসার সুপার ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মাওলানা মোজাফ্ফরের পিতা শফির উদ্দিন মোল্লার সাথে আওয়ামী লীগের কর্মী আমজাদ হোসেনের জমি নিয়ে মামলা চলছিল।

আমজাদ হোসেন মামলায় হেরে গিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের নিয়ে জামায়াত কর্মী মাওলানা মোজাফ্ফরের পিতা ও তিন ভাইয়ের এবং জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকদের ১৩টি বাড়িতে হামলা-ভাংচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দিয়েছে।

এদিকে পারিবারিক কোন্দলকে কেন্দ্র করে নিরীহ মানুষদের বাসায় অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এবং অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর খ ম আব্দুর রাকিব, জেলা সেক্রেটারি মোঃ মহিউদ্দীনসহ নেতৃবৃন্দ।

এএইচ