টানা হরতাল-অবরোধে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের বাজার কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার খাজানগরে ব্যবসায়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। কেনাবেচা বন্ধ থাকায় সারাদেশে চাল সরবরাহও বন্ধ রয়েছে এক সপ্তাহর বেশি সময় ধরে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, সারাদেশে টানা অবরোধের কারণে এই মোকামে উৎপাদিত প্রায় আড়াই হাজার টন চাল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা চাল কিনতে এসেও আটকে গেছেন। এসব কারণে দেশে চালের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, খাজানগরের এই মোকামে কর্মরত ২০ হাজার শ্রমিকের জীবনে নেমে এসেছে অশনি সঙ্কেত। দেশের বিভিন্ন বাজারে চাল সরবরাহ বন্ধ থাকায় এখানকার উৎপাদনও কমে গেছে। এরই মধ্যে অনেক চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। এক সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধে যানবাহন চলাচল না করায় চাল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে দেশের বাজারে। চাতালে যে পরিমাণ ধান সংরক্ষণে ছিল তা থেকে চাল উৎপাদন হওয়ার কাজও শেষ হয়ে গেছে। আর কাজ শেষ হওয়ায় মজুরিও বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ধার-দেনা করে সংসার চলছে। অনাহারে-অর্ধাহারেও চলছে সংসার।

এখানকার চাতাল শ্রমিক কাঞ্চন বালা, শরৎ বালা ও রেখা খাতুনের চোখে হতাশার ছাপ। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফ্রেশ এ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক জানান, অবরোধ আমাদের ব্যবসায়কে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিদিন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ চাল সরবরাহ করা হলেও হরতাল ও অবরোধের কারণে তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, আট দিন ধরে হরতাল-অবরোধের কারণে তারা আটকে আছেন খাজানগরে। ট্রাকে চাল লোড দিয়ে তা ঢাকায় পৌঁছতে পারছি না। এতে চালের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করেন তারা।

একই শঙ্কার কথা জানান নারায়ণগঞ্জের এম কে রাইস এজেন্সির মালিক তৈয়বুর রহমান, টঙ্গীর ইসমাইল রাইস এজেন্সির মালিক বিমল দাস। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু মিল মালিক ঝুঁকি নিয়ে কিছু কিছু ট্রাকে ধান ক্রয় করে নিয়ে আসছেন আবার কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়েই চাল বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন।

কুষ্টিয়া চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মজিদ বাবুল জানান, হরতাল-অবরোধে জেলার প্রায় ৬০০ মিলার চরম বেকায়দায় রয়েছেন। উচ্চ হারে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করলেও হরতাল-অবরোধে পুঁজি হারানোর অবস্থা দেখা দিয়েছে। শুধু চালকল মালিকরাই নন, চাতালের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২০ হাজার শ্রমিকও বেকায়দায় পড়েছেন। তাদের অনেকেরই জীবন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসায় গুটিয়ে নেয়া ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।

রশিদ অ্যাগ্রো ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ জানান, একদিকে ভারতীয় চাল আমদানির প্রভাবে দেশের চালশিল্প মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তার ওপর আবার লাগাতার অবরোধে এ শিল্পের সাথে জড়িতরা কতটা অমানবিক পর্যায়ে রয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

কেএইচ