মানুষকে সচেতন করতে একটি টেলিভিশন শো নিয়ে আসছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। লাইফস্টাইল-বিষয়ক এই রিয়্যালিটি শোর নাম ‘হটলাইন কমান্ডো’।
তিনি বলেন, “সমাজের সব ব্যাধিকে আমাদের লাল কার্ড দেখাতে হবে। সমাজের সমস্যাগুলোকে সমাধান করা না গেলে সোনার বাংলা গড়া যাবে না।”
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সোহেল তাজ এই শোর ঘোষণা দেন। সোহেল তাজ মানুষের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও সুস্থতা নিয়ে কথা বলেন। এছাড়া সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা ও অসংগতির দিকও তুলে ধরেন।
শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি সমাজের সুস্থতাও দরকার উল্লেখ করে
সোহেল তাজ বলেন, “সুস্থ থাকা মানে শুধু স্বাস্থ্যই না; সমাজের সুস্থতাও দরকার। গণমাধ্যমে এখন ধর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে, ইভ টিজিং রয়েছে, মাদক -এগুলো সমাজের ব্যাধি। সমাজের সব ব্যাধিকে আমাদের লাল কার্ড দেখাতে হবে। সমাজের সমস্যাগুলোকে সমাধান করা না গেলে সোনার বাংলা গড়া যাবে না। সোনার বাংলা কেউ গড়ে দিতে পারে না। সবার নিজেদের উদ্যোগ থাকতে হয়।”
চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সোহেল তাজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় একটি টিজার প্রকাশ করেন। যেখান দেখানো হয়, সোহেল তাজ মানুষের দরজায় গিয়ে টোকা দিচ্ছেন। আজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হটলাইন কমান্ডো দল নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের দরজায় কড়া নাড়বেন।
‘হটলাইন কমান্ডো’ আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রতি মঙ্গলবার রাত ৮টায় আরটিভি’তে দেখানো হবে। রিয়্যালিটি এ শো মাসে দুদিন করে ১২ পর্বে হবে। এটি উপস্থাপনা করবেন সোহেল তাজ।
সংবাদ সম্মেলনে সোহেল তাজ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানান প্রশ্নের উত্তর দেন। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আবারও কোনো সম্ভাবনা আছে কি না?
এ প্রশ্নের জবাবে সোহেল তাজ বলেন, “রাজনীতিতে আমি নাই। কিন্তু রাজনীতি পরিবারের সন্তান। রাজনীতি আমার রক্তে, দেশ আমার রক্তে। এটার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই। এই মুহূর্তে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করার সুযোগ নাই। এই প্রোগ্রামটা আমার সমস্ত সময় নিয়ে নেবে। মানুষের কাছে আমি ঋণী। মানুষের ভালোবাসা পরিশোধ করতে যাচ্ছি এই প্রোগ্রামটার (হটলাইন কমান্ডো) মধ্য দিয়ে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ যদি সোহেল তাজকে আরও কোনো রাজনৈতিক দায়িত্ব দেয় তা তিনি গ্রহণ করবেন কি না?
এ প্রশ্নের জবাবে সোহেল তাজ জানান, তিনি ও তাঁর পরিবার দেশের ও আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে পাশে ছিল এবং থাকবে।
আজকের সুদিনে থাকবেন কি না? প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “সুদিনে আমি অন্যভাবে সহায়তা করছি।”
সোহেল তাজ তাঁর টিভি শোতে এটি প্রতিরোধে কোনো কাজ করবেন কি না?
উত্তরে তিনি বলেন, “যেকোনো দেশ যদি উন্নতি করতে চায়, তার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে দুর্নীতি। আমি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের সন্তান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে অবশ্যই চাই বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে। ব্যক্তিগতভাবে সে লক্ষ্যে আমি কাজ করে যাব। এই প্রোগ্রাম হচ্ছে সামাজিক বিষয়বস্তু নিয়ে, সোনার মানুষ তৈরি করার।”
এক প্রশ্নের জবাবে সোহেল তাজ বলেন, “একটা সমাজ যদি প্রস্তুত না থাকে, আপনি কী রাজনীতি করবেন। রাজনীতি কাকে নিয়ে করবেন? সমাজকে গড়তে পারলে, মানুষকে তৈরি করতে পারলে সবকিছুরই সমাধান চলে আসে। হয়তো এটাই আমার পন্থা রাজনীতি করার।”
‘হটলাইন কমান্ডো’ অনুষ্ঠানটি ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন হবে না জানিয়ে সোহেল তাজ বলেন, “রাজনীতি কি সাইনবোর্ড নিয়ে করতে হবে নাকি।”
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন সোহেল তাজ। অবশ্য মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন এবং রাজনীতিতে আর সক্রিয় হননি।
এমবি





