বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যে দেশে প্রায় ৯২% মুসলমান বাস করে। যে দেশ একটি মুসলিম দেশ সে দেশেই রমজান মাস আসার পূর্বেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।

বুধবার ১ জুন সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি কর্তৃক পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতির প্রতিবাদ জানিয়ে কিছু প্রস্তাবনা পেশ করার সময় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে দেখা যায় যে, যেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় সেখানে দ্রব্যের মূল্যের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বরাবরই হয় এর উল্টো।

তিনি আরো বলেন, এদেশের সরকার ও সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো দুর্বলতার সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী, মজুদদার, ফরিয়াহ, টাউট ও মধ্যস্বত্তভোগী দালাল শ্রেণীর কারনে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি হয়। যার ফলে সাধারণ জনগোষ্ঠির জন্য রোজা রাখাও কষ্টকর হয়। যা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন।

রমজানকে কেন্দ্র করে জনগণের ভোগান্তি দূর করতে কিছু প্রস্তাবনা পেশ করা হয় তা হল:

১. দিনের বেলা সকল হোটেল রেস্তোরা বন্ধ রাখতে হবে।
২. নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য যা রমজানে বেশি প্রয়োজন তার উপর হতে সকল প্রকার ভ্যাট, ট্যাক্স প্রত্যাহার করার সুপারিশ করছি।
৩. ঢাকা সিটির মতো সারাদেশেই খোলা ট্রাকে বা রেশনিং পদ্ধতিতে টিসিবিকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় করতে হবে।
৪. সরকারের গুদামে মজুদ চিনি ৩৬ টাকা দরে বিক্রি করার প্রস্তাব করছি।
৫. টিসিবির কার্যক্রম জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
৬. ভেজাল প্রতিরোধে সারা দেশে ভ্রাম্যমান আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
৭. ফরমালিন ও কার্বাইড মুক্ত ফল খাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
৮. জনগণ যাতে যানজটে না পড়ে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৯. ফুটপাত গুলো হাটার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
১০. সড়ক, রেল ও নৌ-পথের ভাড়া হ্রাস করতে হবে ও ঈদে ঘরমুখী জনমানুষের নিরবিচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।
১১. ইন্টারনেট থেকে সকল অশ্লীল ছবি বন্ধ করতে হবে।
উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান এম.এ রশীদ প্রধান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশ ইসলামিক মুভমেন্ট এর চেয়ারম্যান এ্যাড. নুরুল ইসলাম খান সহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

ইআর