রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা গতকাল সেমবার থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। পরীক্ষা অংশগ্রহন করতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দুই লক্ষ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পাড়ি জমিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, মেস ও রাজশাহী শহরের হোটেল গুলোতে। এদিকে মেস গুলোতে এলাকার পরিচিত বড় ভাই-আপু থাকা স্বত্তে¡ও জন প্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মহানগর মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রথমত, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের নিকট হতে এক কপি ছবি, প্রবেশ পত্রের ফটোকপি ও গেস্টের নিকট হতে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও ছবিসহ মেসে অবস্থানকারীদের জন্য পুলিশ কতৃপক্ষ কর্তৃক প্রেরিত ফরম পূরন করে মেস মালিক সংরক্ষরন করবেন। পুলিশ কতৃপক্ষ চাহিবা মাত্র মেস মালিক তা সরবরহ করবেন।
দ্বিতীয়ত, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী ভর্তি পরীক্ষার সময়ে মেসে অবস্থান করার জন্য জনপ্রতি ২০০/=টাকা মেস মালিককে প্রদান করবেন।মেস মালিক সমিতির এমন সিদ্ধান্তের পরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ^বিদ্যালয় সংলগ্ন পাশ^বর্তী বিশেষ করে বিনোদপুর, মন্ডলের মোড়, কাজলা, ধরমপুর, মেহেরচÐী এলাকাগুলোতে ২০০ টাকার বিনিময়ে মেসে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে থাকতে দেওয়া হলেও ফ্লরিং করেই সবার রাত যাপন করতে হচ্ছে। এছাড়া কিছু মেসে আবার রাত প্রাতি ১০০ টাকা করে নির্ধারণ করেছে বলেও জানা যায়। ভর্তিচ্ছুদের এই ভোগান্তির সুযোগ নিয়ে মেসে খাবার দামও বৃদ্ধি করেছে দ্বিগুন পরিমানে।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিনোদপুর গফুর মঞ্জিল ছাত্রীনিবাসে ফ্লরিং করে থাকতে হবে এমন স্বত্তেও, এখানে জনপ্রতি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক নবাব আব্দুল লতিফ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমার কুষ্টিয়া এলাকা থেকে এক ছোট বোন আসছিল ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। তাকে গফুর মঞ্জিলে রাখতে চাইলে দুইশত টাকা চাওয়া হয়, তবে শর্ত দেয় ফ্লরিং করে থাকতে হবে।
২০০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করে গফুর মঞ্জিলের মালিকের ছেলে দিলদার বলেন, ‘টাকা নেওয়া হচ্ছে ঠিক আছে। তবে তাদেরকে বেডে থাকতে দেওয়া হচ্ছে।’ একইভাবে ওকেডি ছাত্রবাসে খোঁজ নিলে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মেস মালিক আমাদেরকে বলেছে, “মেস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।”
এছাড়া বিনোদপুরে সখিনা ছাত্রবাস, মনোয়ারা ম্যনশন, মির্জাপুর মুন্সিলজ খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ২০০ টাকা করে নিয়ে মেসে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ছখিনা ছাত্রবাসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক শিক্ষার্থী বলেন, এলাকা থেকে এক ছোট ভাই পরীক্ষা দিতে আসছে আমার কাছে থাকবে বলে। কিন্তু টাকার বিনিময়ে তাকে থাকতে হচ্ছে।
এদিকে তালাইমারী নূপুর লেডিস হোস্টেলে একইভাবে ১০০ টাকা করে নিয়ে হোস্টেলে থাকার সুযোগ দিচ্ছে তারা। এবং খাবারের দাম বাড়িয়ে সবাইকে খাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত এক ভর্তিচ্ছু আদিৃতা অভিযোগ করেন, এসেছিলাম এলাকার বড় এক আপুর কাছে থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবো। কিন্তু টাকার বিনিময়ে এখানে থাকতে হচ্ছে, এটা কোন ধরণের আতিথিয়তা?
একইভাবে মির্জাপুরের খান মঞ্জিল ছাত্রীনিবাসেও ১০০টাকার বিনিময়ে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।
অবশ্যই চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রথমে ২০০ টাকা করে নির্ধারণ করেছিলাম ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে নিব বলে। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এছাড়া যেখানে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জেনেছি, বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি। আশাকরি সবমেসে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে পারবো।’
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা আগে থেকে জানা থাকলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত। তারপরও মেস মালিক সমিতির সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।’
এব্যাপারে বিশ^বিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. মুজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘এই মুহুর্তে আমরা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব না। আগে থেকে বললে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো।
জেড





