কুষ্টিয়ায় কোরবানি ঈদের পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি এবং বাজারে গিয়ে পশু কিনতে শুরু করেছেন। দামও বেশ ভালো।
ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারলে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত পশু বিক্রেতারা গত দুই বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছেন। অনেকে ঈদের আগ মুহূর্তে বিক্রির জন্য পশু রেখে দিচ্ছেন।

জেলার সর্বত্র গরু পালনকারী কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে ভালো পরিবেশ লক্ষ করা যাচ্ছে। অবশ্য কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আর কদিন পর কী হবে, সেটা সময়ই বলে দেবে।
প্রতিবারের মতো এবারও কুষ্টিয়া অঞ্চলে গরু মোটাতাজাকরণ ব্যাপক হয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় তা কম। গত দুই বছর শেষ মুহূর্তে ভারতীয় গরু প্রবেশের কারণে দেশীয় গরু ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেই কারণে এবার গরু পালন গতবারের তুলনায় কমেছে বলে এলাকাবাসী জানান।

গরু পালন কম হওয়ায় কৃষকেরা আশা করছেন এবার তারা আশানুরূপ দামে গরু বিক্রি করে গত দুই বারের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন। তার প্রমাণ ইতিমধ্যে এলাকার কৃষকেরা পেতে শুরু করেছেন। কুষ্টিয়ার হাটগুলোতে যেখানে গরুর মাংস ২৫০ টাকা কেজি ছিল, সেখানে এখন ২৭০-২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জেলায় সবচেয়ে বেশি গরু পালন হয় কুষ্টিয়া সদর উপজেলায়। এ উপজেলার ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ বাড়িতেই কোরবানির গরু পালন করা হয়। এছাড়া কুমারখালী, মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর ও খোকসা উপজেলায় গরু পালন করেন কৃষকেরা। হাট থেকে গরু কিনে সেই গরু কোরবানির জন্য মোটাতাজা করতে কয়েক মাস সময় লাগে। এলাকার কৃষকেরা এক কোরবানি শেষ করার পর পরবর্তী কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

কয়েক মাসের ব্যবধানে কৃষকের পরিবারের সঙ্গে গরুর আত্মার সম্পর্ক হয়ে যায়। বিক্রির সময় গরু ঘর থেকে বের করার মুহূর্তে কৃষক পরিবারের চোখেমুখে বিষাদের ছায়া নেমে আসে।
সদর উপজেলার জিয়ারখি ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী হাবিব জানান, দিন পনেরো আগে থেকেই কোরবানির গরু বিক্রি শুরু হয়েছে। এবার এলাকায় গরু পালন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে যে গরু আছে তাতে সব কৃষকই উপকৃত হবেন বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে বেশ কয়েক ট্রাক গরু এলাকা থেকে কিনে নিয়ে কুমিল্লায় বিক্রি করেছি। এলাকার কৃষকেরা গরুর মূল্য ভালো পাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই ব্যাপারীরা গ্রামে গিয়ে গরু কিনছেন। এখানকার সব হাটে ব্যাপারীদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো।

জেলার সবচেয়ে বড় গরুর হাট সদর উপজেলার বালিয়াপাড়া। কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের সঙ্গেই এ হাট সপ্তাহের শনিবার বসে। এদিন ভোর থেকেই সেখানে ক্রেতা এবং বিক্রেতার ভিড় বাড়তে থাকে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লক্ষাধিক গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার আমাদানি হচ্ছে। সাধারণ সময়ে এ হাটে হাজার খানেক পশু বেচাকেনা হয়। বর্তমানে ঈদ সামনে রেখে ৮-১০ হাজার গরু বেচাকেনা হচ্ছে।

হররা গ্রামের মোজাম্মেল গো-খামারের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ২৫টি গরু পালন করেছি। গত দুবার আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ ছিলাম। এবার বাম্পার কিছু আশা করছি।’ তিনি জানান, গো-খাদ্য, চিকিৎসা ব্যয় ও ওষুধের মূল্য বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়ে গেছে। তিনি ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নজরদারির জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই