শুভ, হৃদয়, বাবলু, হানিফ, জয়, হান্নান। বয়স তাদের ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। ওরা কেউ লেখাপড়া করে না। অভাবী ঘরের সন্তান। সার্বক্ষণিক অভাব ওদের তাড়িয়ে বেড়ায়। মা-বাবার সামান্য আয়ে ওদের জুটে না দু’মুঠো খাবার।
ভোর হলেই খাবারের অন্বেষণে ছোটে ওরা। প্রত্যেকের হাতে থাকে পলিথিনের বস্তা। ময়লার ভাগার, ডাস্টবিন ও বাসাবাড়ির আশেপাশে ফেলে রাখা আবর্জনার স্তুপে দেখা মেলে ওদের। দলবেধে এসব স্থান থেকে কাগজ, প্লাস্টিক ও কাচের কৌটা, বোতল, কার্টন, লোহার টুকরোসহ হাঁড়গোড় কুড়ায় ওরা।
দিন শেষে বস্তা ভরে চলে যায় মহাজনের ঘরে। পরে ওজন করে তা বিক্রি করে ওরা। এ থেকে ৭০-১০০ টাকা আয় হয়। সেই টাকা নিয়ে ঘরে ফেরে তারা। পুরো টাকা তুলে দেয় মা-বাবার হাতে। আবার কেউ কেউ এ থেকে কিছু ব্যয় করে খাবারও কিনে খায়।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বগুড়া রেলওয়ে ষ্টেশন ও শহরের হাড্ডিপট্টি ঘুরে পথ শিশুদের এমন দৃশ্য ওঠে আসে। ওঠে আসে ওদের হাসিমুখের আড়ালে থাকা বেদনার নানা গল্প।
জয় ও হৃদয় দুই ভাই। গ্রামের বাড়ির নাম ওদের জানা নেই। অভাবের কারণে স্কুলে যাওয়া হয়নি তাদের। ছোট বেলায় মার সঙ্গে তারা রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় থাকে। সেখানে তাদের একটি ঝুপড়ি ঘর রয়েছে। ওদের মা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। আর তারা সারাদিন ওইসব সামগ্রী কুড়ে বেড়ায়।
হানিফের বয়স ১০বছর। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় তার গ্রামের বাড়ি। মা অনেক আগেই মারা গেছেন। বাবা ইদ্রিস আলী আরেকজনকে বিয়ে করেছেন। হানিফ তাকে মা হিসেবে চেনেন। মা ঝিয়ের কাজ করেন। বাবা শহরের রিকসা চালান। সেও মা-বাবার সঙ্গে রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় ঝুপড়ি ঘরে থাকে।
হানিফ জানায়, সংসারে অভাব। মা-বাবার আয়ে ঠিকমত খাবার জোটে না। তাই প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে ময়লার ভাগাড়ে ছুটতে হয়। সেখান থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ আসে। কিন্তু কি করার আছে। ময়লা-আবর্জনার স্তুপ হাতড়ে হাতড়ে বিভিন্ন সামগ্রী কুড়াতে হয়। কেননা না গেলে মা বকাবকি করেন। অনেক সময় মারধরও করেন। আর বাবা বলেন, ‘গরীবের ঘরে জন্মাইলে কাজ করে খেতে হয়’।
জয় বলে, গরীবের ঘরে জন্ম নিয়েছি। তাই পেটের চিন্তা করতে হয়। আগে বাঁচতে তো হবে। সারাদিন বস্তা নিয়ে ময়লার ভাগাড়ে ভাগাড়ে ছুটতে হয়। বিভিন্ন সামগ্রী কুড়াতে হয়। বস্তা ভরতে হয়। বিকেলে তা বিক্রি করার জন্য মহাজনের কাছে যেতে হয়। তাই আমাগো মত গরীবের লেখাপড়ার স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪ডটকম
এমএনজে





