তীব্র গরমে খোলা আকাশের নিচে কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারা মানেবতর জীবন যাপন করছে। রোদের কারণে ত্রিপলের তৈরি বিদ্যুৎ বিহীন রোহিঙ্গাদের কুড়ে ঘরগুলো দিনের বেলায় বসবাস করা যাচ্ছেনা।
শরণার্থী শিবিরের আশপাশের পাহাড়ের গাছের ছায়া এখন রোহিঙ্গাদের প্রধান ভরসা। দিনের বেলা গাছের নিচে পরিবার পরিজন নিয়ে রোদের তীব্রতা থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করছে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তিতে ঘুরে দেখা গেছে আশ্রয় নিতে আসা রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবন যাপনের করুন চিত্র। সহায় সম্পদ, আত্মীয় স্বজন হারিয়ে রোহিঙ্গারা কোন রকমে বাঁচার আশায় আশ্রয় নিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছে।
গরমের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মাঝে দেখা দিয়েছে খাদ্য অভাব। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য কয়েকটি এনজিও প্রথম দিকে ত্রাণ সামগ্রী দিলেও নানা সমস্যার কথা বলে ঐ সব এনজিও গুলোও গা ডাকা দিয়েছে।
বালুখালীর বনভূমিতে বসবাসরত প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা খাদ্য সংকট ও তীব্র গরমে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। কাজের সুযোগ নাথাকায় তাদের অধিকাংশ বেকার হয়ে আছে। আয় রোজগার নাথাকায় রমজান মাসটিতে কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছে মিয়ানমারের থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ।
শবিবার সকালে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ও বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার চিত্র দেখে এসব তথ্য জানা যায়।
তীব্র গরমের মধ্যে পলিথিনের একটি ঝুঁপড়ি ঘর গুলোতে গাদাগাদি করে বসবাস করছে ৭-১০ জনের পরিবার। তেমনি একটি পরিবারের সদস্য আবদুর সবুর জানায়, গরমের তীব্রতায় দিনের বেলায় তাদের ঘরের ভেতরে মনে হয় যেন আগুন জ্বলছে। তাই দিনের বেলায় আশপাশের গাছ গাছালির নিচে তারা আশ্রয় নিচ্ছে।
নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা কষ্টের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করলেও রমজানে এখনো তাদের প্রতি কেউ সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দেয়নি। তাই রমজানে এসব রোহিঙ্গারা রোজা কিভাবে রাখবে সে আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছে।
এ ব্যাপারে কুতুপালং আনরেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক জানান, প্রথম দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যক্তিবর্গ এসে রোহিঙ্গাদের নগদ টাকা ও বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করতে দেখা গেলাও ইদানিং তাও নেই। তাই রোহিঙ্গারা একপ্রকার মানবেতর জীবনযাপন করছেই বলা যায়।
এমএনজে





