ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সেবিকাদের বিরুদ্ধে রোগীকে অন্যত্র প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ফিরোজা খাতুন নামের এক সেবিকা হরিণাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসুতিদের কোন চিকিৎসা নেই এমন কথা বলে গর্ভবতি নারীদের স্থানীয় আনোয়ারা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে পরিক্ষা-নিরিক্ষা ও সিজার থেকে কমিশন নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
১৮ই জানুয়ারী বুধবার হরিণাকুন্ডুর বোয়ালিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী আছিয়া বেগম সন্তান প্রসবের জন্য হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। এ সময় নার্স ফিরোজা তাকে হাসপাতালের সেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে নিকটস্থ আনোয়ারা ক্লিনিকে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে নার্স ফিরোজা খাতুন জানান, তিনি আছিয়া খাতুনকে আট্রাসনো করার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনি রোগী ভাগানোর সাথে জড়িত নয়।
অন্যদিকে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আয়া তাসলিমা খাতুনের বিরুদ্ধে প্রসুত মায়েদের কাছ থেকে জোর করে এক হাজার টাকা করে আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে আয়া বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ করেন।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি হরিণাকুন্ডুর ভেড়াখালী গ্রামের নাজমা খাতুন সন্তান প্রসবের জন্য আসেন। সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পর তার কাছ থেকে জোর করে ৫০০ টাকা নেন। একই ভাবে হরিশপুরের শাহনাজ, মনোহরদিয়া গ্রামের বিথি খাতুন, কালাপাড়িয়া গ্রামের রোখসানা, কুলবাড়িয়া গ্রামের সুরভি খাতুন ও মাগুরার খাদ্য কর্মকর্তা হাসানের স্ত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা, প্রয়োজনীয় ছোট-খাটো জিনিসপত্র জোর করে আদায় করেন।
প্রতিবাদ করলে আয়া তাসলিমা খাতুন রোগীর স্বজনদের সাথে ঝগড়াঝাটি এবং গালিগালাজ করেন। এমনকি নার্সরা প্রসুতিদের সেবা করার জন্য বেডে আসতে চাইলেও আয়া তাসলিমা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে প্রসুতি মা ও স্বজনরা বিপদে পড়েন।
আয়া তাসলিমার অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে রোগীরা সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে আয়া তাসলিামা খাতুন জানান, আমার কোন সরকারী বেতন নেই। রোগীদের কাছ থেকে বখশিস নিয়ে আমার সংসার চলে।
তারিক/জারিফ





