ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশিদপুরে এনা পরিবহন ও লন্ডন এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসময় দুই বাসের আরও অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানার রশিদপুর নামক স্থানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
সুমন নামে আরেক যাত্রী জানান, লন্ডন পরিবহনের বাসে ২৯-৩০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের সবাই আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন মারাও গেছেন।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লন্ডন এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩১৭৬) ও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকামুখী এনা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৭৩১১) দ্রুতগতির দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এতে বহু যাত্রী হতাহত হয়েছেন।
ওসি মনিরুল জানান, আজ সকাল ৭টার দিকে সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী এনা পরিবহণের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে চারজন মারা যান। এরমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে চারজনের লাশ উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার প্রথম দিকে পুলিশ ১১ জন নিহতের কথা জানালেও পরবর্তীতে ৮জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন-সিলেটের উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক আল মাহমুদ সাদ ইমরান খান (৩৩), এনা পরিবহনের চালক ওসমানীনগর উপজেলার ধরখা গ্রামের মঞ্জুর আলী (৩৮), এনার সুপারভাইজার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিঠাভরা গ্রামের সালমান খান (২৫), হেলপার ধরখা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার রাজানিয়াকান্দি পশ্চিম পাড়ার নুরুল আমিন (৫০), ঢাকার ওয়ারি এলাকার সাগর আহমদ (২৯) ও সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকা শাহ কামাল (২৭)। নিহত চিকিৎসক ইমরান খানের স্ত্রী শারমিন আক্তার অন্তরা (২৯) গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার্থী।
ফায়ার সার্ভিস সিলেটের ভারপ্রাপ্ত ডিডি মো: কুবাদ আলী সরকার বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে আমরা এসে ১০ জনকে উদ্ধার করেছি। এরমধ্যে ৭ জনের মরদেহ রয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন হতাহতকে এর আগেই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
এমবি





