কুড়িগ্রামে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে ধানের বাজার মূল্য।

এই অঞ্চলে কৃষির ওপর নির্ভরশীল কৃষকের মুখে হাসি নেই। তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করে, প্রয়োজনীয় সমস্যার সমাধান করতে হিমশিম খাচ্ছে।

রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রামে জেলার রাজারহাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ১ মণ হাইব্রিড ধান ৩৯০-৪০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, ২৮ জাতের ১ মণ ধান ৫২০-৫৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন কৃষকরা।
আকতারুজ্জামান নামে এক কৃষক জানান, ‘বর্তমান ধানের দাম কম হওয়ায় এক মণ ধান বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে হচ্ছে।’তিনি আরো জানান, ১ মণ ধান বিক্রি করে ১ কেজি গরুর মাংস পাওয়া গেলেও খাসির মাংস পাওয়া যায় না। ১ কেজি গরুর মাংস ৪০০ টাকা, খাসি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৯০ টাকা থেকে ৫৩০ টাকা পর্যন্ত। যা এক কেজি গরু বা খাসির মাংসের দামের চেয়ে কম।

বেলাল নামে একজন কৃষক জানান, ‘তার উৎপাদিত ধান ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করে গরুর মাংসের বদলে ১৫০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মাংস কিনেছেন।’

আবদুল মজিদ নামে এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধান আর চাষ করা যাবে না। ধান কাটার মজুরদের হাজিরা দিতে ক্ষেতের ধানের অর্ধেকের মতো চলে যাচ্ছে। এখন ধানের পরিবর্তে অন্য ফসল ফলাতে হবে। তিনি এক্ষেত্রে আলু উৎপাদন করাটা লাভবান বলে মনে করেন।

তিনি আরো জানান, এক একর জমিতে ধান হয়েছে ৬০ মন বা ৩০ বস্তা যার বাজারে দাম মাত্র ২৪,০০০ টাকা। কিন্তু এক একর জমির ধান কাটা-মাড়াই করতে মজুরের হাজিরা দিতে হচ্ছে ৯,০০০ টাকা। এছাড়া এতদিনের শ্রম খরচ তো আছেই। তাহলে শুধু ধান চাষ করে টাকা ক্ষতি করার দরকার কী?
এআই