দেশের ভোগ্যপণ্যের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার ভারত থেকে ভুর্তকি দিয়ে পিঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী আমদানি করলেও সাধারণ জনগণ তা পাচ্ছে কতটুকু? উখিয়ার অর্ধ শতাধিক পাইকারি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সিংহভাগ পিঁয়াজের চালান খুচরা বিক্রির নামে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চলে যাচ্ছে মিয়ানমারে। চোরাচালান প্রতিরোধে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিজিবি সদস্যদের নজরদারি আরো বৃদ্ধি করার পরামর্শ দিলেও থামছে না মিয়ানমারে নিত্যপণ্য পাচার।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া ডেইলপাড়া, হাতিমোরা, আজুখাইয়া, ঘুমধুম, তুমব্রু, বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী, ধামনখালীসহ প্রায় ১১টি পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত পাচার হচ্ছে নিত্যপণ্য। বিশেষ করে সীমান্তের তুমব্রু পয়েন্ট দিয়ে বেশিরভাগ পণ্য পাচার হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। উখিয়া সদর, মরিচ্যা, কোটবাজার, কুতুপালং, থাইংখালী, বালুখালী ও পালংখালী এলাকার প্রায় ২০ জন পাইকারি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১শ’ মেট্রিক টন পিঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এসব পিঁয়াজ খুচরা বিক্রির নামে চাঁদের গাড়িতে করে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে সুযোগ বুুঝে এসব পিঁয়াজ নাফ নদী পার হয়ে চলে যাচ্ছে মিয়ানমারে। পিঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য মিয়ানমারে পাচার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী সিরাজ সওদাগর, প্রদীপ সেন, বিশ্বনাথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী তপন বিশ্বাস জানান, তারা খুচরা ব্যবসায়ীদের নিত্যপণ্য বিক্রি করছে। এসব মালামাল কিভাবে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা তাদের জানার কথা নয়। পিঁয়াজ ছাড়াও ভোজ্য ও জ্বালানি তেল, রসুন, আদা, চিনি, সেমাই থেকে শুরু করে আটা, ময়দা, সাবানসহ লক্ষ লক্ষ টাকার জীবন রক্ষাকারী ওষুধ মিয়ানমারে নির্বিঘ্নে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
গত তিন মাসে বিজিবি সদস্যরা যাত্রীবাহী গাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার ওষুধ উদ্ধার করেছেন। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টের বিজিবি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মুসা জানান, ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এসব নিত্যপণ্য মিয়ানমারে পাচারের ঘটনা তাদের জানা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় চাহিদার অজুহাত দাঁড় করানোর কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তবে সীমান্তের তুমব্রু বিজিবি’র জিন্নাত আলী বললেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, তুমব্রু বাজার ব্যবসায়ী সমিতির টোকেন নিয়ে যে সমস্ত মালামাল বাজারে আসছে তা সেখানকার চাহিদার তুলনায় বেশি। ব্যবসায়ী সমিতির অনুমতি পত্র থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জহিরুল ইসলাম খান জানান, নিত্যপণ্য পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ার কারণে তারা চোরাচালান প্রতিরোধ করতে পারছেন না।
জেআই





