কুষ্টিয়ায় ট্রাকের সঙ্গে নসিমনের সংঘর্ষে ৫ জন নারী শ্রমিক নিহত হয়েছে।
সোমবার সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার বটতৈল এলাকায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত পিতাহার মির্জার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৬৫), মৃত আক্কাস মণ্ডলের স্ত্রী কমেলা খাতুন (৬৩), মৃত তফায় শেখের স্ত্রী ফজিরন খাতুন (৪৫), মধুপুর গ্রামের লিয়াকতের স্ত্রী সুখী খাতুন (৩৫) ও কুমারখালী উপজেলার বিড়িকয়া গ্রামের আমেনা বেগম (৬০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।
এদের মধ্যে বুড়ি (৫৫), আলেয়া (৪৫), জোসনা (৫০) ও সুরজানকে (৫০) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গুরুতর আহত যাত্রীদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, সকালে বিকট শব্দ শুনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। দ্রুত বাইরে বের হয়ে দেখেন সড়কের ওপর আহত নারী-পুরুষ পড়ে আছেন। এর মধ্যে তিনি দুজন নারীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। অন্যরা কাতরাচ্ছিলেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকালে আহত ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সুখী খাতুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সাড়ে আটটার দিকে আহত আরেক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর নাম জানা যায়নি। কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম জানান, ট্রাকটির সঙ্গে নসিমনের সংঘর্ষ হলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই নসিমনের আরোহী। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুর রহমান বলেন, ট্রাক ও নসিমন আটক করা হয়েছে। চালকদের পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকার মধুপুর, বিত্তিপাড়া ও লক্ষীপুর থেকে বিএটি কারখানায় কাজ করতে ওই নারীরা নসিমনে করে যাচ্ছিলেন। ভাদালিয়া এলাকায় পৌঁছালে শ্রমিকদের নামানোর জন্য নসিমনটি সড়কের পাশে দাঁড় করানো হয়। এসময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নসিমনকে ধাক্কা দেয়। এতে নসিমনটি উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় ৭ জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
এমআইএস





