ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) শ্রমিক কর্মচারী লীগের বকুল- হারুনের নেতৃত্বাধীন কমিটির পোষ্টার ছিড়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকলীগের দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

জানা যায়, ওই পোষ্টারে রয়েছে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সজিব ওয়াজেদ জয়, শ্রমিক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক মো. বরকত খানের ছবি, দলীয় শ্লোগান এবং ডিএনসিসির শ্রমিক কর্মচারীলীগ ‍"বকুল- হারুনের কমিটির" ২০ জনের ছবি।

গত ১৯ জানুয়ারি এ পোষ্টার ছিড়ে ফেলেছে শ্রমিকলীগের "রশিদ- মান্নান" গ্রুপের লোকজন।আর এ পোষ্টার ছিড়ার ঘটনায় গত ১৯ জানুয়ারি শ্রমিক লীগের সভাপতি বজলুল মোহাইমিন(বকুল) এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন মিয়া বাদী হয়ে গুলশান থানায় জিডি নং-১১০৩ দায়ের করেন।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়,'বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শ্রমিক লীগের নেতাদের ছবিসহ অবরোধ বিরোধী পোষ্টার লাগানো হয়। আর ওই পোষ্টার ছিড়ে ফেলেন, তথাকথিত শ্রমিকলীগের নেতা আবদুর রশিদ,মো.আলী, মাসুদ কাজী, গোলাম মোস্তফা,জামাল হোসেন,আ.রাজ্জাক, মিজানুর রহমান টিটু, শাহজাহান গং।

এদিকে শ্রমীক লীগের বকুল- হারুন এবং রশিদ- মান্নানের সমর্থিত লোকজন মারমুখী অবস্থানে রয়েছেন। গত ২দিন যাবৎ গুলশানস্থ নগর ভবনসহ ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে তারা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে,ফলে যে কোনো সময় ডিএনসিসিতে ঘটতে পারে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

ডিএনসিসির শ্রমিক কর্মচারীলীগের সভাপতি বকুল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন মিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০ সদস্যের কমিটির কর্মকর্তাদের ছবিও রয়েছে ওই পোষ্টারে।

এছাড়া পোষ্টারের শ্লোগান; সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ-- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুনিয়ার মজদুর এক হও, দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র রুখে দাড়াও,অর্থনীতি ধ্বংসের হরতাল অবরোধ মানিনা ,মানবো না ইত্যাদি শ্লোগান এবং শ্রমিক কর্মচারীলীগের ২০ নেতার রঙিন ছবি।

আরো জানা যায়, ডিএনসিসিতে নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিক কর্মচারী লীগের কমিটি গঠন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বকুল- হারুনদের সমর্থিত নেতা কর্মীরা দাবী জানিয়ে আসছেন। রেজিষ্ট্রার্ড ট্রেড ইউনিয়ন থেকেও নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিক কর্মচারী লীগ রেজি নং- ৪৬৯৮ এর কমিটি গঠনের পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু আবদুর রশিদ- মান্নানের সমর্থিতরা বিনা নির্বাচনে একটা পকেট কমিটি গঠন করেন। তবে রেজিষ্ট্রার্ড ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ রশিদের এ কমিটি বাতিল করেন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।ওই নির্দেশ অমান্য করে রশিদ হাইকোর্টে রিট করেন। ফলে বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারণ করে। যতই দিন যাচ্ছে শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাধারণ কর্মীদের মাঝেও প্রচন্ড ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে।
একে