মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, বাল্যবিবাহ রোধে ১৯২৯ সালের আইন পরিবর্তন করে ২০১৪ আইনের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত।

রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে সোমবার সকালে বাংলাদেশ গার্ল সামিট ২০১৪ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খসড়ায় এফিডেভিড করে বয়স বাড়িয়ে বিয়ে দেওয়া সুযোগ থাকছে না। বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিড গ্রহণযোগ্য হবে না। এই আইনে মা-বাবাসহ রেজিস্টারকারীর শাস্তির বিধান রাখা হবে।

তিনি বলেন, ‘শুধু শাস্তি দেওয়ার জন্যই এই আইন তৈরি করা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে আমরা বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা সমতার সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে যাব।’

চুমকি বলেন, অপরিণত বয়সের মেয়ে শিশুদের মা-বাবার কথা শুনতে হবে। তারা নিজেদের ইচ্ছা মত কারও হাত ধরে বাড়ি ছাড়তে পাড়বে না। সেক্ষেত্রে মা-বাবাসহ সবাইকে বাল্যবিবাহ রোধে সচেতন হতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার বৈষম্য বাজেট করা হয়েছে। ৭টি বিভাগের ৭টি জেলার ৭টি উপজেলায় বাল্যবিবাহ রোধে ক্লাব নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারবে।

তিনি বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ নারী শিশু যাদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ মধ্যে তারাই ঘরে স্বামী হাতে নির্যাতিত হয়ে নিহত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের বক্তব্যে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ বলেন, বাল্যবিয়ের ফলে বাংলাদেশে অধিকাংশ মেয়েরা মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ছে। যদিও স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন দিকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মেয়েরা বোঝা নয় সম্পদ। আমাদের পরিবারগুলোতে মেয়েদের অবজ্ঞা করার প্রবণতা রয়েছে। আমাদের এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কেননা মেয়েরাও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক পার্লামেন্টারী আন্ডার সেক্রেটারি লিন ফেরদাস্টোন।

অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম।

এএইচ