বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করতে চান বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ।

মঙ্গলবার চার দিনের ভারত সফরের উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার দিনহাটায় নিজের জন্মভিটায় এসে তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন তিনি।  এতদিনেও তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা না মেটায় কিছুটা আক্ষেপের সুরে এরশাদ বলেছেন, ‘তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা নিয়ে লেখা গানের সিডি দিয়েছিলাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে। সে সমস্যাও নিশ্চয় মিটবে একদিন।’ প্রয়োজনে পানি বণ্টন সমস্যা মেটাতে দু’দেশের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এরশাদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সফরের সময় আমি নিজের লেখা একটি গানের সিডি উপহার দিয়েছিলাম মুখ্যমন্ত্রীকে। ওকে ফোন করা যেতে পারে। জানতে চাইব গানগুলো শুনেছেন কি না।’ ‘তিস্তা তোমার বুকের পরে গরুর গাড়ির চাকা ঘোরে। তিস্তা তুমি বন্দি কেন, মুক্তি পাবে কবে?’ দুই কলি গানও শুনিয়েছেন তিনি।

এরশাদ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতা চেয়েছি। উনি সমস্যা সমাধানের জন্য একটা উপায় বের করার জন্য কথা দিয়েছেন।’

পশ্চিমবঙ্গের বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অবশ্য বলেছেন, ‘তিস্তার উৎস ভুটানে পানি কমে গেছে। নদী বিশেষজ্ঞদের ওপর এ ব্যাপারে একটি রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এরশাদের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেয়া শুভেচ্ছা বার্তা তুলে দেন বিধায়ক এবং বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

ছিটমহল সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, তিনি ছিটমহলের বাসিন্দাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে তাদের পুনর্বাসন জনিত সমস্যা শিগগিরি দূর হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এরশাদের সফর সঙ্গী বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের গীতালদহ হয়ে দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ চালু নিয়ে সমীক্ষা হয়েছে বলে জানান। বাংলাদেশ সরকার দিনহাটা-গীতালদহ সড়ক এবং রেল যোগাযোগের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান এরশাদ।

বাংলাদেশের সাবেক প্রসিডেন্ট এরশাদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তাকে ‘বিরল রাজনীতিবিদ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে কুচবিহারের দিনহাটার পৈতৃক বাড়িতে এসেছিলেন এরশাদ। এখানকার দিনহাটা হাইস্কুল থেকে ১৯৪৬ সালে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে তিনি কুচবিহারের দিনহাটায় পৌঁছলে তাকে শুভেচ্ছা জানান দিনহাটার মহকুমা প্রশাসক কৃষ্ণাভ ঘোষ এবং নাটাবাড়ির বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এরশাদের সফরে তার সঙ্গে ভাই জি এম কাদের এবং ছেলে এরিক এরশাদ রয়েছেন। পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত সফরে এসেও তিস্তার পানি প্রসঙ্গে মন্তব্য করে এরশাদ কূটনৈতিক চাল দিলেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এমএ