আগের মতই রাজধানীতে চলছে ফুটপাত দখল। এই দখলদার সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি খোদ সিটি করপোরেশনও। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে প্রতিদিনই এর পরিসর বাড়ছে বলে মনে করছেন বিষেশজ্ঞ মহল।
অসাধু কিছু পুলিশ কর্মকর্তা আর স্থানীয় প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অজুহাত দিয়ে ডিসিসি বলছে, বার বার উদ্যোগ নিয়েও ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে পুলিশের দাবি, ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখতে সচেষ্ট রয়েছেন তারা।
ফুটপাত মানে পায়ে হাঁটার পথ। তবে, রাজধানীতে এর অর্থ ভিন্ন। হাঁটার যায়গা অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। অনেক ক্ষেত্রে এর পরিসর বেড়েছে ব্যস্ততম সড়কে পর্যন্ত। ফলে বাধ্য হয়েই ফুটপাত ছেড়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা।
অন্যদিকে বাড়ছে দখলদারদের দৌরাত্ব, এতে পথচারীর সমস্যার পাশাপাশি বাড়ছে যানজটও। আর তাই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাসমূহে ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুতের লাইনম্যান নামে পরিচিত অবৈধ সংযোগকারীরা নানা কৌশলে এ সংযোগ দিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য হকারপ্রতি দৈনিক ৩০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে তারা।
নিউ মার্কেটের সামনে ফুটপাতে পোশাক ব্যবসায়ী আলফাজ জানান, প্রায় বছর তিনেক ধরে তিনি এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিচ্ছেন। অনেক ফুটপাত ব্যবসায়ী আশপাশের দোকান থেকে সংযোগ নিয়ে ব্যবসা করছেন। এজন্য সংশ্লিস্ট দোকানের পাশাপাশি লাইনম্যানদেরও টাকা দিতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি এলাকায় প্রায় ১০/১২ জন লাইনম্যান রয়েছে। তাদের এলাকাও ভাগ করা আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলিফ্যান্ট রোডের এক লাইনম্যান জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের ‘মনরক্ষা’ করে চলা হয়।
নগর বিশেষজ্ঞ ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, একটি মেগাসিটি হিসেবে আমাদের রাজধানী ঢাকা শহরের যানবাহন চলাচলের যে পরিমাণ রাস্তা থাকার দরকার তা কিন্তু নেই। একইভাবে পথচারীদের হাঁটার জন্য সে অনুযায়ী ফুটপাতও নেই। তারপরও যেটুকু আছে সেটিও আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। কারণ এই ফুটপাতগুলো অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে।
যদিও আইনে আছে ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে। কিন্তু ঢাকার অধিকাংশ ফুটপাত হকার কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দ্বারা অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। অন্যদিকে ফুটপাতে কিংবা রাস্তার ওপর দালানকোঠা নির্মাণ করার জন্য নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার মাধ্যমেও এটি দখল হয়ে আছে। এজন্য রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিকল্প নেই।
তবে হকার উচ্ছেদ করার আগে তাদের জন্য বিকল্প জায়গার বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা এখানে অনেক পরিবারের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টি জড়িত রয়েছে।
যানজট নিরসনের জন্য বা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এটি আমার জানা নেই বলেও জানান অধ্যাপক জামিলুর।
উল্লেখ্য, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হলিডে মার্কেট সৃষ্টি করে হকারদের ফুটপাত থেকে সরিয়ে আনার জন্য একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে এর কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়।
অধ্যাপক জামিলুর রেজা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করার মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা শহরের যানজট অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব।
এমএ, কেবি





